আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৭ ফেব্রুয়ারি- গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনপথে প্রায় আট হাজার মানুষ মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। তবে মানবিক সহায়তায় অর্থসংকোচন ও তথ্য সংগ্রহে সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি সংস্থা।
জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এক বিবৃতিতে জানায়, ভূমধ্যসাগর ও আফ্রিকার শিং অঞ্চলসহ বিভিন্ন বিপজ্জনক পথে অভিবাসনের সময় ২০২৫ সালে অন্তত ৭ হাজার ৬৬৭ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ হাজার ২০০। যদিও সংখ্যাটি কমেছে, সংস্থাটি বলছে, এটি বাস্তব চিত্র পুরোপুরি তুলে ধরে না।
সংস্থার মতে, নিরাপদ ও বৈধ পথে অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। ফলে অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে দালাল ও মানবপাচারকারীদের হাতে নিজেদের তুলে দিচ্ছেন। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং অভিবাসন নিরুৎসাহিত করতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ফলে অনিয়মিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রা বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেন, অভিবাসনপথে প্রাণহানি অব্যাহত থাকা একটি বৈশ্বিক ব্যর্থতা, যা স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। তার ভাষায়, এসব মৃত্যু অনিবার্য নয়। নিরাপদ পথ বন্ধ থাকলে মানুষ বিপজ্জনক যাত্রায় নামতে বাধ্য হয় এবং দালাল ও পাচারকারীদের কবলে পড়ে। তাই দ্রুত নিরাপদ ও নিয়মিত পথ সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সংস্থাটি জানায়, গত বছর আমেরিকা মহাদেশে বিপজ্জনক অনিয়মিত যাত্রা কিছুটা কম হওয়ায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। তবে একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহে ঘাটতি এবং অর্থের অভাবে প্রাণহানির পূর্ণাঙ্গ হিসাব রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। জেনেভাভিত্তিক এই সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের অর্থসংকোচনের প্রভাবেও পড়েছে, যার ফলে তাদের অনেক কর্মসূচি সীমিত বা বন্ধ করতে হয়েছে। এতে অভিবাসীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সমুদ্রপথ এখনও সবচেয়ে প্রাণঘাতী রুটগুলোর একটি। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভূমধ্যসাগরে অন্তত ২ হাজার ১০৮ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জগামী আটলান্টিক পথেও ১ হাজার ৪৭ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এশিয়ায় প্রায় ৩ হাজার অভিবাসীর মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে, যাদের অর্ধেকের বেশি আফগানিস্তানের নাগরিক। আফ্রিকার শিং অঞ্চল থেকে ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে যাওয়ার পথে ৯২২ জন মারা গেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এদের প্রায় সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক। বিশেষ করে তিনটি বড় নৌকাডুবির ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
২০২৬ সালেও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কেবল ভূমধ্যসাগরেই ৬০৬ জন অভিবাসীর মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, বৈশ্বিকভাবে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া অভিবাসনপথে প্রাণহানি কমানো সম্ভব নয়। নিরাপদ ও মানবিক সমাধান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au