মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ২৭ ফেব্রুয়ারি- পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে সংঘর্ষ সম্প্রতি রাতারাতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, তার দেশ প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে উভয় দেশের সামরিক সক্ষমতা ও শক্তির পার্থক্য পরিস্কারভাবে দৃশ্যমান।
পাকিস্তানের সামরিক শক্তি আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি। লন্ডনভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’-এর তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী জনবল নিয়োগ ও ধরে রাখার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। দেশটি চীনের কাছ থেকে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম পেয়ে শক্তিশালী হচ্ছে। ইসলামাবাদ তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়ন করছে এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।
অন্যদিকে, আফগান তালেবানের সামরিক সক্ষমতা ক্রমশ কমছে। ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের সময় তারা বিদেশি নানা সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেছিল। তবে সেই সরঞ্জামের ব্যবহারিক ক্ষমতা এখন কমে গেছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পাওয়া এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে আফগান তালেবান তাদের সামরিক আধুনিকায়ন কার্যকরভাবে করতে পারছে না।
সেনাবাহিনীর আকারে পাকিস্তান বর্তমানে মোট ৬ লাখ ৬০ হাজার সক্রিয় সেনা সদস্য রাখে। এর মধ্যে ৫ লাখ ৬০ হাজার সেনাবাহিনীতে, ৭০ হাজার বিমানবাহিনীতে এবং ৩০ হাজার নৌবাহিনীতে কর্মরত। আফগান তালেবানের সেনাবাহিনীতে সক্রিয় সৈন্যের সংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৭২ হাজার। তবে তারা এই সংখ্যা দুই লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে।
যুদ্ধযান ও কামানের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ক্ষমতা অনেক বেশি। পাকিস্তানের ৬ হাজারের বেশি সাঁজোয়া যুদ্ধযান এবং ৪ হাজার ৬০০টির বেশি কামান রয়েছে। আফগানিস্তানের কিছু যুদ্ধযান আছে, তবে সেগুলো মূলত সোভিয়েত আমলের ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান। এদের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি, তেমনি কামান বা গোলাবারুদের সংখ্যাও অজানা।
বিমানবাহিনীতে পাকিস্তানের শক্তি ৪৬৫টি যুদ্ধবিমান এবং ২৬০টির বেশি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। এখানে হামলাকারী ও মালবাহী উভয় ধরনের হেলিকপ্টার অন্তর্ভুক্ত। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো বিমানবাহিনী নেই। তাদের কাছে মাত্র ৬টি বিমান এবং ২৩টি হেলিকপ্টার রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগ সোভিয়েত আমলের। তবে এগুলোর মধ্যে কতগুলো বর্তমানে কার্যকরভাবে ব্যবহারযোগ্য তা নিশ্চিত নয়।
পারমাণবিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে পাকিস্তান একটি শক্তিধর দেশ। পাকিস্তানের হাতে ১৭০টি পারমাণবিক বোমা বা ওয়ারহেড রয়েছে। আফগানিস্তানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান ও আফগান তালেবানের এই সামরিক পার্থক্য সীমান্ত সংঘাতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। তবে যুদ্ধের ফলাফল নির্ভর করবে কৌশল, প্রযুক্তি ব্যবহার, জোট ও আন্তর্জাতিক সমর্থনের ওপর। সীমান্তে চলমান সংঘাতে উভয় দেশের ক্ষয়ক্ষতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au