ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১ মার্চ- ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেয়ানিয়াহু দাবি করেছেন, খামেনি আর ‘বেঁচে নেই-এমন লক্ষণ’ পাওয়া যাচ্ছে। তবে তিনি সরাসরি তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির খবরে বলা হয়েছে, এক সংক্ষিপ্ত টেলিভিশন বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের ‘স্বৈরশাসক’ হয়তো আর জীবিত নেই। তবে এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এনবিসি নিউজের লাইভ সাক্ষাৎকারে বলেন, তাঁর জানা অনুযায়ী ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জীবিত আছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে পরবর্তীতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে। তাদের দাবি, প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান অংশ নিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ প্রায় ৫০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই অভিযানের বর্ণনা দিয়েছে তাদের বিমান বাহিনীর ইতিহাসের বৃহত্তম সামরিক অভিযান হিসেবে।

অন্যদিকে ইরানও পাল্টা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরানের প্রভাবশালী বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি–ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই রুট ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা। ছবিঃ সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রপথে পরিবাহিত বিশ্ব তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে যায়। ফলে প্রণালিটি বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এদিকে ইরানে চলমান হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন। মেহের নিউজের বরাতে সংস্থাটির এক মুখপাত্র বলেন, ইরানের ৩২টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২৪টিতে হামলা হয়েছে। উদ্ধারকাজে রেড ক্রিসেন্টের ২২০টির বেশি দল কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত নতুন করে আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। একদিকে ইসরায়েল ইরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের দাবি করছে, অন্যদিকে ইরান পাল্টা কঠোর প্রতিক্রিয়ার কথা বলছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও সংযমের আহ্বান জানানো হলেও পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে।