বিশ্ব

সিআইএ ও মোসাদের সমন্বয়

কীভাবে খামেনির অবস্থান খুঁজে পেল ইসরায়েল

  • 7:02 pm - March 01, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৬৪ বার
কীভাবে খামেনির অবস্থান খুঁজে পেল ইসরায়েল। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১ মার্চ- ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা সমন্বয় ছিল বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অভিযানের বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান, চলাফেরা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নিবিড় নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছিল মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি।

সূত্রগুলোর দাবি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খামেনির দৈনন্দিন অভ্যাস, বৈঠকের ধরন এবং নিরাপত্তা ঘেরাটোপের দুর্বলতা সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সংস্থাটি জানতে পারে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে এবং সেখানে খামেনিও উপস্থিত থাকবেন।

এই তথ্য হাতে পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের পূর্বনির্ধারিত হামলার সময় পরিবর্তন করে। আগে রাতের অন্ধকারে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও বৈঠকের সময়সূচি নিশ্চিত হওয়ার পর সকালেই হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন গোয়েন্দা তথ্যকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত ও কৌশলগত সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়।

বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল এমন একটি কমপ্লেক্সে, যেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট, সর্বোচ্চ নেতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় অবস্থিত। ইসরায়েলের ধারণা ছিল, সেখানে উপস্থিত থাকবেন ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, সামরিক কাউন্সিলের প্রধান আলী শামখানি, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি, উপগোয়েন্দামন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজিসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।

অভিযান শুরু হয় ইসরায়েল সময় ভোর ৬টার দিকে। সে সময় যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। বিমানসংখ্যা সীমিত হলেও সেগুলোতে ছিল দীর্ঘপাল্লার এবং অত্যন্ত নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র। উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্দিষ্ট কমপ্লেক্সে আঘাত হানে।

হামলার সময় জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা কমপ্লেক্সের একটি ভবনে অবস্থান করছিলেন। খামেনি ছিলেন পাশের আরেকটি ভবনে। ইসরায়েলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এক বার্তায় জানান, তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের জড়ো হওয়া কমপ্লেক্সও ছিল। তাঁর ভাষ্য, ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলেও এই হামলায় কৌশলগত চমক দিতে সক্ষম হয়েছে ইসরায়েল।

এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস কিংবা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি। তবে রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে, শনিবারের হামলায় আলী শামখানি ও মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল আগেই তাঁদের হত্যার দাবি করেছিল।

অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এটি দীর্ঘ প্রস্তুতি, গভীর নজরদারি ও কার্যকর গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত ফল। গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতের পর ইরানের নেতৃত্বের যোগাযোগব্যবস্থা, চলাফেরা এবং নিরাপত্তা প্রটোকল সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই খামেনির গতিবিধি অনুসরণ করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা চলাকালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে খামেনি কোথায় অবস্থান করছেন এবং চাইলে তাঁকে হত্যা করা সম্ভব। সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সে সময় যে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক অভিযানে একই নেটওয়ার্কের তথ্য কাজে লাগানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা তথ্যভান্ডার আরও সমৃদ্ধ হয়।

এ ছাড়া ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অবস্থান সম্পর্কেও নির্দিষ্ট তথ্য জোগাড় করা হয়েছিল বলে সূত্রগুলোর দাবি। নেতৃত্ব অবস্থান করা কমপ্লেক্সে হামলার পর যেসব স্থানে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ছিলেন, সেসব স্থানেও পরবর্তী ধাপে আঘাত হানা হয়। যদিও ইরানের শীর্ষ এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে, তবু দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের বড় অংশ এই অভিযানে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও গভীর সমন্বয় ছিল। একই সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতির স্পষ্ট সংকেত থাকা সত্ত্বেও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেনি বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ নিউইয়র্ক টাইমস

এই শাখার আরও খবর

আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…

মুন্সীগঞ্জে হিন্দু নারী কবিরাজ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, প্রতিবেশী মীর হোসেন গ্রেপ্তার

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে হিন্দু নারী ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত কবিরাজ রেখা রাণী রায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘদিন…

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…

এশিয়ান কাপ শেষে ইরানে ফেরা নিয়ে শঙ্কায় নারী ফুটবলাররা, অস্ট্রেলিয়ায় সুরক্ষার দাবি জোরালো

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ: ২০২৬ নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ইরানের নারী ফুটবল দলকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী, ইরানি-অস্ট্রেলীয় কমিউনিটি এবং খেলোয়াড়দের অধিকার…

তেহরান ও ইসফাহানে ইসরায়েলের নতুন দফায় ‘ব্যাপক’ বিমান হামলা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরান ও গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানে নতুন দফা ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী…

প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাইলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, হামলা স্থগিতের ঘোষণা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্দেশে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরানের অন্য কোনো দেশে আগ্রাসন চালানোর…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au