বিশ্ব

সিআইএ ও মোসাদের সমন্বয়

কীভাবে খামেনির অবস্থান খুঁজে পেল ইসরায়েল

  • 7:02 pm - March 01, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২২১ বার
কীভাবে খামেনির অবস্থান খুঁজে পেল ইসরায়েল। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১ মার্চ- ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা সমন্বয় ছিল বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অভিযানের বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান, চলাফেরা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নিবিড় নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছিল মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি।

সূত্রগুলোর দাবি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খামেনির দৈনন্দিন অভ্যাস, বৈঠকের ধরন এবং নিরাপত্তা ঘেরাটোপের দুর্বলতা সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সংস্থাটি জানতে পারে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে এবং সেখানে খামেনিও উপস্থিত থাকবেন।

এই তথ্য হাতে পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের পূর্বনির্ধারিত হামলার সময় পরিবর্তন করে। আগে রাতের অন্ধকারে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও বৈঠকের সময়সূচি নিশ্চিত হওয়ার পর সকালেই হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন গোয়েন্দা তথ্যকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত ও কৌশলগত সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়।

বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল এমন একটি কমপ্লেক্সে, যেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট, সর্বোচ্চ নেতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় অবস্থিত। ইসরায়েলের ধারণা ছিল, সেখানে উপস্থিত থাকবেন ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, সামরিক কাউন্সিলের প্রধান আলী শামখানি, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি, উপগোয়েন্দামন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজিসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।

অভিযান শুরু হয় ইসরায়েল সময় ভোর ৬টার দিকে। সে সময় যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। বিমানসংখ্যা সীমিত হলেও সেগুলোতে ছিল দীর্ঘপাল্লার এবং অত্যন্ত নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র। উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্দিষ্ট কমপ্লেক্সে আঘাত হানে।

হামলার সময় জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা কমপ্লেক্সের একটি ভবনে অবস্থান করছিলেন। খামেনি ছিলেন পাশের আরেকটি ভবনে। ইসরায়েলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এক বার্তায় জানান, তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের জড়ো হওয়া কমপ্লেক্সও ছিল। তাঁর ভাষ্য, ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলেও এই হামলায় কৌশলগত চমক দিতে সক্ষম হয়েছে ইসরায়েল।

এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস কিংবা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি। তবে রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে, শনিবারের হামলায় আলী শামখানি ও মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল আগেই তাঁদের হত্যার দাবি করেছিল।

অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এটি দীর্ঘ প্রস্তুতি, গভীর নজরদারি ও কার্যকর গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত ফল। গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতের পর ইরানের নেতৃত্বের যোগাযোগব্যবস্থা, চলাফেরা এবং নিরাপত্তা প্রটোকল সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই খামেনির গতিবিধি অনুসরণ করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা চলাকালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে খামেনি কোথায় অবস্থান করছেন এবং চাইলে তাঁকে হত্যা করা সম্ভব। সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সে সময় যে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক অভিযানে একই নেটওয়ার্কের তথ্য কাজে লাগানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা তথ্যভান্ডার আরও সমৃদ্ধ হয়।

এ ছাড়া ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অবস্থান সম্পর্কেও নির্দিষ্ট তথ্য জোগাড় করা হয়েছিল বলে সূত্রগুলোর দাবি। নেতৃত্ব অবস্থান করা কমপ্লেক্সে হামলার পর যেসব স্থানে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ছিলেন, সেসব স্থানেও পরবর্তী ধাপে আঘাত হানা হয়। যদিও ইরানের শীর্ষ এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে, তবু দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের বড় অংশ এই অভিযানে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও গভীর সমন্বয় ছিল। একই সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতির স্পষ্ট সংকেত থাকা সত্ত্বেও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেনি বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ নিউইয়র্ক টাইমস

এই শাখার আরও খবর

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড: আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম

‘আমি কেমনে বাঁচুম রে, আমার সুইটিরে আইনা দ্যাও রে। আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম।’ সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মেয়ে সুইটি আক্তারের…

ধামরাইয়ের ৫২০ কেজির অষ্টধাতুর দুর্গাপ্রতিমা, হবে না বিসর্জন

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: ঢাকার ধামরাইয়ের বণিকবাড়িতে ৫২০ কেজি ওজনের অষ্টধাতুর দুর্গাপ্রতিমার পূজা চলছে। আগামীকাল বুধবার পূজা শেষে এটি দেওয়া হবে না বিসর্জন। এটিই এখানকার রীতি।…

শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন, আতঙ্কে বিদেশগামী যাত্রীরা

ওটিএন বাংলা ডেস্ক : রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)…

সরকার চায় ঐক্য, একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী

দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর…

ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে…

মসজিদে বয়ানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য খতিবের, নিরব প্রশাসন

ঢাকার খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকার টানপাড়ার জামতলা জামে মসজিদে জুমার বয়ানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রসাদ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে মসজিদটির অস্থায়ী খতিব…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au