চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ০২ মার্চ- কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে তিনটি প্রধান রাজনৈতিক প্যানেলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ ফলাফল এসেছে। ১৭টি পদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল ৭টি, জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেল ৬টি এবং বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ৪টি পদে জয় পেয়েছে।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন এবং চকরিয়া উপজেলা চৌকি আদালত ভবনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাত ২টার দিকে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল মন্নান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট আমির হোসাইন।
সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট আখতার উদ্দিন হেলালী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্যানেল থেকে সহসভাপতি পদে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, পাঠাগার ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট শওকত ওসমান এবং নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট আজিজুল করিম নির্বাচিত হয়েছেন। ১৭টি পদের বিপরীতে ১৬ জন প্রার্থী দিয়ে তারা মোট ৪টি পদে জয় পান।
জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেল থেকে সিনিয়র সহসভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আবদুল বারী, সহসাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন মাহমুদ তমাল, সিনিয়র নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নেজামুল হক ও অ্যাডভোকেট এ কে এম শাহজালাল চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট এস এম জসিম জয়ী হন। ১৭ জন প্রার্থী দিয়ে তারা ৬টি পদে জয় লাভ করেন।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সহসাধারণ সম্পাদক (হিসাব) পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রিদুয়ান আলী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নাহিদা খানম কক্সী, সিনিয়র নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট ইকবালুর রশিদ আমিন ও অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন আহমদ নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট পারভীন সুলতানা পিয়া ও অ্যাডভোকেট সেকাব উদ্দিন জয় পেয়েছেন। ১৪ জন প্রার্থী দিয়ে তারা ৭টি পদে জয়ী হন।
সমিতিতে মোট ভোটার ছিলেন ৯৪৮ জন। এর মধ্যে কক্সবাজার কেন্দ্রে ৮৬১ জন এবং চকরিয়া কেন্দ্রে ৮৭ জন ভোটার ছিলেন। মোট ৮৯২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কক্সবাজার কেন্দ্রে ৮০৬ জন এবং চকরিয়া কেন্দ্রে ৮৬ জন ভোট দেন।
১৭টি পদের বিপরীতে ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সমিতির ইতিহাসে এবারই প্রথম আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত তিনটি প্যানেল পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহমদ কবির প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সহকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এম রেজাউল করিম, সৈয়দ রাশেদ উদ্দিন ও মোস্তাক আহমদ। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফরিদ আহমদ, নূর আহমদ, আবু ছিদ্দিক, তাপস রক্ষিত, মোহাম্মদ সিরাজউল্লাহ, এ কে ফিরোজ আহমদ ও মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ।
১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির ইতিহাসে গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতার কারণে এবার প্রথমবারের মতো রমজান মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গত বছরের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি পদে জয়ী হয়েছিল। জামায়াত সমর্থিত প্যানেল পেয়েছিল ৬টি পদ এবং আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন ২টিতে। এবার ফলাফলে তিন পক্ষের মধ্যে তুলনামূলক ভারসাম্য দেখা গেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au