মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল ১০ শতাংশ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২ ফেব্রুয়ারি- মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
রোববার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছায় বলে তেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। এর আগে শুক্রবার দাম বেড়ে ৭৩ ডলারে উঠেছিল, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় গত কয়েক দিন ধরেই বাজারে অস্থিরতা বাড়ছিল। সপ্তাহান্তে ফিউচার লেনদেন বন্ধ থাকে।
জ্বালানি ও পরিশোধন খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিসির পরিচালক অজয় পারমার বলেন, সামরিক হামলা নিজেই তেলের দামের জন্য সহায়ক হলেও মূল বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া। তার ভাষ্য, সপ্তাহান্তের পর বাজার খুললে দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি যেতে পারে, এমনকি প্রণালিতে দীর্ঘ সময় বিঘ্ন ঘটলে সেই সীমা ছাড়িয়েও যেতে পারে।
বাণিজ্য সূত্রে জানা গেছে, তেহরান জাহাজ চলাচল না করার সতর্কবার্তা দেওয়ার পর অধিকাংশ ট্যাংকার মালিক, তেল কোম্পানি ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। বিশ্বে মোট তেলের ২০ শতাংশেরও বেশি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
রয়্যাল ব্যাংক অব কানাডার বিশ্লেষক হেলিমা ক্রফট বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে তেলের দাম ১০০ ডলারের বেশি হতে পারে। অন্যদিকে রাবোব্যাংকের বিশ্লেষকেরা তুলনামূলকভাবে সংযত পূর্বাভাস দিয়ে বলেছেন, স্বল্পমেয়াদে দাম ৯০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে।
এদিকে তেল উৎপাদক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস রোববার ঘোষণা দিয়েছে, এপ্রিল থেকে তারা দৈনিক উৎপাদন দুই লাখ ছয় হাজার ব্যারেল বাড়াবে। তবে এই বৃদ্ধি বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় শূন্য দশমিক দুই শতাংশেরও কম।
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাডের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ হোর্হে লেওনের মতে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হলে বিকল্প অবকাঠামো ব্যবহার করেও দৈনিক ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন এবং আবুধাবির পাইপলাইন দিয়ে কিছু সরবরাহ সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও পুরো ঘাটতি পূরণ করা যাবে না। রিস্টাডের পূর্বাভাস, বাজার খুললে তেলের দাম প্রায় ২০ ডলার বেড়ে ৯২ ডলারের কাছাকাছি যেতে পারে।
ইরান সংকটের প্রভাব এশিয়াতেও পড়েছে। বিভিন্ন দেশ ও শোধনাগার তাদের মজুত পরিস্থিতি এবং বিকল্প সরবরাহপথ পর্যালোচনা শুরু করেছে। কেপলার নামের এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষকেরা এক আলোচনায় বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ কমে গেলে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তার ওপরই আগামী দিনের দামের গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্রঃ রয়টার্স