লেবাননে ইসরাইলের বিমান হামলা। ফাইল ছবি
মেলবোর্ন, ২ মার্চ- লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলের ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৪৯ জন। সোমবার (২ মার্চ) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী বৈরুতসহ একাধিক অঞ্চলে একযোগে এই হামলা চালানো হয়।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উত্তর ইসরাইলে হিজবুল্লাহর বড় ধরনের রকেট হামলার জবাবে তারা ‘লেবাননজুড়ে’ গোষ্ঠীটির অবস্থান লক্ষ্য করে আঘাত হানছে। তাদের ভাষ্য, হিজবুল্লাহকে ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি তৈরি করতে দেওয়া হবে না এবং প্রতিটি হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
হামলার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি দাহিয়েহ এলাকা, যা হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেখানে টানা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান চক্কর দিতে দেখা গেছে। বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কয়েকটি আবাসিক ভবন আংশিক ধসে পড়েছে বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আহতদের অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
এই হামলার আগে হিজবুল্লাহ দাবি করেছিল, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার হুমকির জবাবে তারা ইসরাইলের হাইফা শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলের পক্ষ থেকে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে উত্তরাঞ্চলে সাইরেন বেজে ওঠা ও রকেট প্রতিহতের কথা স্বীকার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছিল। গাজা পরিস্থিতির জেরে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলা ধীরে ধীরে বিস্তৃত আকার নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই সংঘাত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে।
লেবানন সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে ইসরাইল বলছে, তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।
পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। সীমান্তজুড়ে গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় নতুন করে প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা