‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২ মার্চ- জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও সংরক্ষণশালার নামফলক থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি সরিয়ে ফেলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, তাদের পরিবার ও সচেতন নাগরিকরা একে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
২০২২ সালের ১৮ এপ্রিল পাঁচবিবি পৌরসভা ভবনের তৃতীয় তলায় জাদুঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন তৎকালীন শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান। প্রতিষ্ঠার সময় জাদুঘরটিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা, মুক্তিযুদ্ধকালীন ব্যবহৃত নানা সামগ্রী, ঐতিহাসিক দলিল, গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন এবং দুর্লভ বইয়ের সংগ্রহ সংরক্ষণ করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি শিক্ষার্থী, গবেষক ও ইতিহাস-আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়।
কিন্তু সম্প্রতি দেখা যায়, জাদুঘরের মূল ফলকে আগের নাম পরিবর্তন করে সেখানে ‘পাঁচবিবি জাদুঘর সংরক্ষণশালা’ লেখা হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনা।
শুধু নামফলক নয়, জাদুঘরের ভেতরের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও বিভিন্ন সংগ্রহশালার উপকরণের ওপর ধুলোর স্তর জমে আছে। একটি কক্ষে পৌরসভার ডাস্টবিন ও পরিত্যক্ত সামগ্রী স্তূপ করে রাখা হয়েছে। যে স্থানে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতি সংরক্ষণের কথা, সেটি ময়লা রাখার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
আয়মারাসুলপুর ইউনিয়নের আগইর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এমন কাজ স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। তার মতে, কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই পরিবর্তন করেছে তা তদন্ত করে বের করা জরুরি।
মালিদহ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক মণ্ডলের ছেলে মনিরুজ্জামান বলেন, জাদুঘরের নাম থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দ মুছে দেওয়া মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসকে খাটো করার শামিল। তিনি জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রউফ বুলু ঘটনাটিকে ন্যক্কারজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কার নির্দেশে বা কার প্ররোচনায় নামফলক পরিবর্তন করা হয়েছে তা দ্রুত উদ্ঘাটন করতে হবে। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন জয়পুরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জহুরুল আলম তরফদার। তার ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নাম পরিবর্তন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে পাঁচবিবি পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী জোবাইদুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নামফলক থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দ মুছে ফেলা এবং জাদুঘরের ভেতরে ময়লা রাখা অনুচিত হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই ফলক আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম হোসেন বলেন, জাদুঘরটি দীর্ঘদিন সঠিক ব্যবস্থাপনায় ছিল না। সংস্কার করে নতুনভাবে, সুষ্ঠু পরিবেশে এটি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের আশ্বাসের পাশাপাশি ঘটনার পেছনের কারণ উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরও ঘটতে পারে। তাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণে অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত পরিবর্তন কোনোটিই মেনে নেওয়া যায় না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au