খাস পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষে বিএনপির ২ কর্মী নিহত। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩ মার্চ- সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় সরকারি খাস পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বিএনপির দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন মৃত ময়দান আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (৬০) এবং মৃত মনছের আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৭০)। স্থানীয় দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা দুজনই স্থানীয় বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালপাড়া গ্রামের প্রায় পাঁচ বিঘা সরকারি খাস পুকুরটি নিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আছমত আলী (৫০) এবং ধামাইনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকের (৪৮) মধ্যে প্রায় ১৫–১৬ বছর ধরে বিরোধ চলছিল। দীর্ঘদিন পুকুরটি স্থানীয় মসজিদের নামে ইজারা নিয়ে আছমত আলী মাছ চাষ করলেও গত বছরের ৫ আগস্টের পর সিদ্দিক তিন বছরের জন্য নতুন করে ইজারা নেন বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
সোমবার সকালে সিদ্দিকের সমর্থকেরা পুকুরে মাছ আহরণের জন্য জাল ফেললে আছমত আলীর লোকজন বাধা দেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ ধারালো অস্ত্র, দা, হাসুয়া ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের দিকে আব্দুস সালাম সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এবং ইসমাইল হোসেন বগুড়ায় মারা যান।
রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শামসুল আলম বলেন, নিহত দুজনই দলের সক্রিয় কর্মী। দীর্ঘদিনের দখলদারিত্ব ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, সময়মতো চিকিৎসা পেলে অন্তত একজনের প্রাণ রক্ষা সম্ভব হতে পারত।
তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ নাকচ করেছেন সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আকিকুন নাহার। তিনি বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তারপরও সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান বলেন, খাস পুকুরের ইজারা ও দখল নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরেই সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রায়গঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া জানান, মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ রানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, বিবাদমান পুকুরটি খাস বলে জানা গেছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে কোনো ইজারা দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, খাস পুকুরে মাছ ধরা কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা বলে ইউএনও জানিয়েছেন। বিষয়টি প্রশাসন নজরে রেখেছে।
উল্লেখ্য, একই পুকুরকে কেন্দ্র করে ২০০৭ সালেও একজন নিহত হয়েছিলেন। সরকারি খাস সম্পদ ঘিরে বারবার প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।