মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি বছরে মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে ভারতের তুলনায় এগিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। যদিও সামগ্রিক অর্থনীতির আকারে ভারত…
মেলবোর্ন, ৩ মার্চ- আজ মঙ্গলবার দোলযাত্রা ও গৌড় পূর্ণিমা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসবটি সারা দেশে ভক্তি, আনন্দ ও আধ্যাত্মিক আবহে উদ্যাপিত হচ্ছে। শ্রীকৃষ্ণের লীলা-স্মরণে পালিত এ দিনটি ‘দোলযাত্রা’ বা ‘দোল উৎসব’ নামে পরিচিত। একই দিনে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের কাছে গৌড় পূর্ণিমা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, কারণ এই তিথিতেই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব ঘটেছিল বলে বিশ্বাস করা হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথিতে বৃন্দাবনের নন্দকাননে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ রাধিকা ও সখীদের সঙ্গে রঙের খেলায় মেতেছিলেন। সেই লীলার স্মরণেই দোল উৎসবের প্রচলন। রাধাকৃষ্ণকে দোলনায় আসীন করে দোলানো বা দোলায় গমন করার রীতির মধ্য থেকেই ‘দোল’ শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে বলে পণ্ডিতদের মত।
দোলযাত্রার মূল বার্তা হলো ন্যায়ের জয়, অন্যায়ের পরাজয় এবং মানবসমাজে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করা। ভক্তরা এ দিনে মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করেন, কীর্তনে অংশ নেন এবং রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহে আবির অর্পণ করেন। অনেক স্থানে শোভাযাত্রা বের করা হয়, যেখানে ভক্তরা কীর্তন গাইতে গাইতে দোলায় রাধাকৃষ্ণের প্রতিমা বহন করেন।
বাংলাদেশে সব মত ও পথের হিন্দুরা এই উৎসব উদ্যাপন করেন। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় মন্দিরভিত্তিক পূজা, হোমযজ্ঞ, নামকীর্তন ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে সকালে পূজা ও কীর্তন, পরে আবির খেলা এবং দুপুরে প্রসাদ বিতরণের কর্মসূচি রয়েছে।
দোলযাত্রা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ মন্দির ও উপাসনালয়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোথাও যেন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত–এও উৎসবটি ব্যাপক উৎসাহে পালিত হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও উড়িষ্যায় এটি দোল উৎসব নামে পরিচিত, আর উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য ভারতে ‘হোলি’ নামে খ্যাত। বসন্তের আগমনী বার্তা বহন করায় অনেকেই একে বসন্ত উৎসবও বলেন।
দোলযাত্রা ও গৌড় পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা পৃথক বিবৃতিতে হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা বলেন, ভক্তি, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির রঙে সবার জীবন রাঙিয়ে তুলুক এই উৎসব।
রঙের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক চেতনায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক সমাজ—এই প্রত্যাশাতেই উদ্যাপিত হচ্ছে এ বছরের দোলযাত্রা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au