ইরানের হামলার পর কাতারের রাজধানী দোহার একটি এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ছে। ১ মার্চ ২০২৬। ফাইল ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৫ মার্চ- কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের পর এবার বাহরাইনের রাজধানী মানামা-তেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মানামায় অবস্থানরত বার্তা সংস্থা এএফপি এর এক প্রতিবেদক এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে কাতারের রাজধানী দোহা-তে দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে একই সংস্থার প্রতিবেদক জানান। বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দোহায় মার্কিন দূতাবাসের আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে কাতার কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছিল। উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব ও কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস হামলার শিকার হয়েছে। দুবাইয়ের মার্কিন কনস্যুলেটেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দোহায় দূতাবাসসংলগ্ন এলাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরান-এও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিভিন্ন স্থানে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি উড়তে দেখা গেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা টানা ষষ্ঠ দিনের মতো তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে।
উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে পাল্টাপাল্টি হুমকি উচ্চারিত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজে কোনো সতর্কতা ছাড়াই হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনার ফল যুক্তরাষ্ট্রকে ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যে নজির স্থাপন করেছে, তার জন্য তাদের অনুতপ্ত হতে হবে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ‘আইআরআইএস দিনা’ নামের একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন সাবমেরিন থেকে হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজটি ডুবে যায়। শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জাহাজটিতে প্রায় ১৮০ জন আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের নৌবাহিনী উত্তর উপসাগরে একটি মার্কিন ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজকে এ পথে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের কোনো জাহাজ দেখা গেলে তা লক্ষ্য করে আঘাত হানা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসি আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রস্তাবনার ভিত্তিতে যুদ্ধাবস্থায় হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের অধিকার ইরানের রয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বিস্ফোরণ, পাল্টা হামলা ও হুমকি–পাল্টা হুমকির ঘটনায় সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।
সূত্রঃ রয়টার্স