সমাধানের পথ নেই, বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি
মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…
মেলবোর্ন, ৬ মার্চ- অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ পুলিশের জন্য নির্ধারিত নতুন ইউনিফর্ম নিয়ে বাহিনীর ভেতরেই স্পষ্ট অনীহা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ০.৮৪ শতাংশ সদস্য বর্তমান পোশাক পরতে আগ্রহী। বিপরীতে ৯৬.৫৭ শতাংশ সদস্য আগের পোশাকে ফিরে যেতে চান। আর ২.৫৯ শতাংশ সদস্য বর্তমান বা আগের নয়, সম্পূর্ণ নতুন নকশার পোশাক চান।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদরদপ্তর সারাদেশে সদস্যদের মতামত জানতে উদ্যোগ নেয়। গত শনিবার ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এবং বিভিন্ন ইউনিট প্রধানদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে তিনটি বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়—কত শতাংশ সদস্য আগের পোশাক চান, কত শতাংশ বর্তমান পোশাক রাখতে চান এবং কত শতাংশ একেবারে নতুন পোশাকের পক্ষে। সোমবারের মধ্যে ইউনিটভিত্তিক মতামত সংগ্রহ করে সদরদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়।
তিন মাসেই বিতর্ক
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় তিন মাস আগে পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন এই ইউনিফর্ম চালুর পর থেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। তাদের দাবি, মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মতামত না নিয়েই তড়িঘড়ি করে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এবার সব পর্যায়ের সদস্যদের মতামত যাচাই করে সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষে যে মত থাকবে, সেটিই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশের কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি পোশাক পরিবর্তনের দাবি ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন ইউনিফর্ম অনুমোদন করে। গত বছরের ১৪ নভেম্বর থেকে দেশের মহানগর পুলিশের সদস্যরা ‘লৌহ’ বা আয়রন রঙের নতুন পোশাক পরে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরে ধাপে ধাপে জেলা পর্যায়েও তা কার্যকর করার পরিকল্পনা ছিল।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ, র্যাব এবং অঙ্গীভূত আনসার বাহিনীর পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। জানুয়ারিতে তিন বাহিনীর জন্য নতুন পোশাক নির্ধারণ করা হলেও সমালোচনার মুখে র্যাব ও আনসারের পোশাকে পরিবর্তন কার্যকর হয়নি।
আপত্তির কারণ
পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নতুন ইউনিফর্মের রং ও নকশা নির্ধারণে বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, লৌহ রঙের পোশাক অন্য বাহিনীর ইউনিফর্মের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। রাতে দায়িত্ব পালনের সময় এটি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয় না বলেও দাবি করা হয়েছে। এছাড়া দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একজন কর্মকর্তা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে পোশাক পরিবর্তন করা হয়। দরপত্রের মাধ্যমে ১৪১ কোটি টাকার কাপড় সরবরাহের কাজ পায় নোমান গ্রুপ। ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যদের বছরে পাঁচ সেট পোশাক দেওয়া হয়। প্রায় ২১ বছর পর সর্বশেষ পোশাক পরিবর্তন করা হয়। এর আগে ২০০৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন এবং ১০ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তৎকালীন সরকার দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে আগের ইউনিফর্ম নির্ধারণ করেছিল। সে সময় আবহাওয়া, দিন-রাতে দৃশ্যমানতা, সদস্যদের গায়ের রং এবং অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে যেন মিল না থাকে—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সাম্প্রতিক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই পরিবর্তনের পক্ষে নন। তাদের মতে, আগের ইউনিফর্মটি শুধু পোশাক নয়, বরং বাহিনীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের প্রতীক।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au