আংশিক খুলছে কাতারের আকাশপথ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংকারে লাখো ইসরায়েলি
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কাতার সীমিত পরিসরে তাদের আকাশপথ আবার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।…
মেলবোর্ন, ৬ ফেব্রুয়ারি- মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে শুক্রবার ছুটির দিনেও অস্বাভাবিক ভিড় দেখা গেছে। অনেক জায়গায় মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে তর্কবিতর্ক এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
রাজধানীর পরীবাগ এলাকার মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশনে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, জ্বালানি নিতে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন দাঁড়িয়ে আছে। ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে শুরু হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে হয়ে শাহবাগ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ পর্যন্ত এই লাইন বিস্তৃত ছিল। এত দীর্ঘ লাইনের কারণে ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও ওই সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়।
লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে মোটরসাইকেলচালকদের মধ্যে কয়েক দফা তর্কবিতর্কের ঘটনাও ঘটে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কে আগে তেল নেবেন তা নিয়ে কয়েকজন চালকের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় এবং একপর্যায়ে কিছু চালক হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজন এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

পরীবাগ স্টেশনে জ্বালানি তেলের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে মোটরসাইকেলচালকদের হাতাহাতি। ছবিঃ সংগৃহীত
উবারচালক নাজমুল হাসান জানান, তিনি শাহবাগ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রায় ৫০ মিনিট অপেক্ষা করার পর তিনি তেল নিতে পেরেছেন। তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে তিনি অন্তত দুই থেকে তিনটি ভাড়া পেতে পারতেন। প্রতিদিন তার প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল লাগে। অন্যদের তুলনায় রাইডশেয়ার চালকদের জন্য তেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তেল না থাকলে তাদের আয় বন্ধ হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, দু-এক দিনের মধ্যে যদি তেল শেষ হয়ে যায় তাহলে কী হবে তা নিয়ে তিনি চিন্তিত, কারণ এই আয়ের ওপরই তার সংসার চলে।
তবে মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারের সহকারী ব্যবস্থাপক আহমেদ রুশদ বলেন, তাদের ফিলিং স্টেশনে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। ক্রেতারা যেভাবে তেল চাইছেন, সেভাবেই দেওয়া হচ্ছে। মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হলেও বাস্তবে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে দৈনিক বাংলা মোড়ের বিনিময় ফিলিং স্টেশনেও একই ধরনের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকাল ১১টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে ২০০ টাকা এবং প্রাইভেট কারে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। তেল নেওয়ার আগে স্টেশনের কর্মচারী মো. সাহেদ উদ্দিন গ্রাহকদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিচ্ছিলেন যে এই সীমার বেশি তেল দেওয়া হবে না।

তেল কিনতে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন। ছবিঃ সংগৃহীত
এই স্টেশনে তেল নিতে আসা সজীব রহমান জানান, তিনি ফরিদপুরে নিজের বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এজন্য তার অন্তত চার লিটার তেল প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ফিলিং স্টেশনে এসে দেখেন তাকে ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তেল পাবে না অথচ সরকারি চাকরিজীবীরা কীভাবে তেল পাচ্ছেন। তারা তো সাধারণ মানুষের করের টাকায় চলে।
বিনিময় সার্ভিসিং সেন্টার ও ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারী জানান, তাদের কাছে তেলের মজুত তুলনামূলক কম রয়েছে। তাই সবাইকে অল্প অল্প করে তেল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে বেশি সংখ্যক মানুষ কিছুটা হলেও তেল পেতে পারেন।
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরের পাশের করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনেও মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। স্টেশনটির কোষাধ্যক্ষ মো. সোহাগ বলেন, সাধারণত ছুটির দিনেও তাদের স্টেশনে এত লম্বা লাইন দেখা যায় না। তবে বর্তমানে ডিপো থেকে আগের তুলনায় কম তেল আসছে। আবার যারা আগে ২০০ থেকে ৪০০ টাকার তেল নিতেন তারা এখন ট্যাংক ভর্তি করে তেল নিচ্ছেন। ফলে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে।
এই স্টেশনে তেল নিতে আসা মো. মামুন হোসেন বলেন, তিনি একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। তিনটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে অবশেষে এখানে এসে তেল নিতে পেরেছেন। অন্য স্টেশনগুলোতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছিল না। তাই তিনি এখানে এসে ট্যাংক ভর্তি করে তেল নিয়েছেন।
রাজধানীর রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশনেও শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ যানবাহনকে তেল দেওয়া হচ্ছে না। কেবল অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশের গাড়ি, সরকারি গাড়ি এবং যেসব গাড়ির তেল একেবারে শেষ হয়ে গেছে তাদেরকেই তেল দেওয়া হচ্ছে।
স্টেশনটির কোষাধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বলেন, সাধারণত শুক্রবার ও শনিবার তাদের স্টেশনে ডিপো থেকে তেল সরবরাহ আসে না। তাই রিজার্ভে থাকা সীমিত তেলই বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি জানান, আগে একজন গ্রাহক যেখানে ২০০ টাকার তেল নিতেন এখন সেখানে ২ হাজার টাকার তেল নিতে চাইছেন। আগে যেখানে তিন গাড়ি তেল পাওয়া যেত এখন সেখানে এক গাড়ি তেল পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে। ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে আগেভাগে তেল কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। এই আতঙ্ক থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অস্বাভাবিক ভিড় তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সূত্রঃ প্রথম আলো
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au