যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত: অস্ট্রেলিয়া কি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে?
মেলবোর্ন, ৯ মার্চ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা…
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- অস্ট্রেলিয়ার সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) রাজ্যের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্সের নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা সমাবেশ করেছেন। রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক পুলিশ উপস্থিতি দেখা যায়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কর্মীরা মূলত ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপ সিডনি এবং অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক দল গ্রিনস–এর সদস্যরা। তারা সিডনির কোগারা এলাকায় রেলওয়ে প্যারেড সড়কে অবস্থিত প্রিমিয়ারের কার্যালয়ের সামনে ফুটপাতে অবস্থান নেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করেন। সেখানে একটি ছোট মঞ্চও স্থাপন করা হয়, যেখান থেকে বিভিন্ন বক্তা বিকেলজুড়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন।
বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে “প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা করো” এবং “নারীদের জন্য এখনই ন্যায়বিচার”–এর মতো স্লোগান দেখা যায়। একই সঙ্গে গ্রিনস দলের পতাকাও প্রদর্শন করা হয়।
সমাবেশস্থলের কাছাকাছি সড়কে পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। তবে তারা ফুটপাতে অবস্থান না নিয়ে সড়কের পাশে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল বলে জানা গেছে।
এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা কোগারার রেলওয়ে প্যারেড সড়ক ধরে মিছিল বের করেন। মিছিল চলাকালে পুলিশ সদস্যদেরও তাদের সঙ্গে হাঁটতে দেখা যায় এবং তারা পরিস্থিতি নজরদারি করেন।
এই বিক্ষোভ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন এনএসডব্লিউ সরকার প্রণীত নতুন বিক্ষোভবিরোধী আইন নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপ সিডনি বর্তমানে ওই আইনের বিরুদ্ধে এনএসডব্লিউ সুপ্রিম কোর্টে একটি সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ করেছে। নতুন আইন অনুযায়ী, পুলিশের কমিশনার চাইলে জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারেন এবং ঐতিহ্যগতভাবে যে অনুমতির ভিত্তিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হতো, সেই ব্যবস্থা স্থগিত করার ক্ষমতাও তার রয়েছে।
বিক্ষোভকারী সংগঠনটির দাবি, এই আইন রাজনৈতিক মতপ্রকাশের সাংবিধানিক স্বাধীনতার ওপর অতিরিক্ত সীমাবদ্ধতা আরোপ করছে। তবে রাজ্য সরকার বলছে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে সিডনিতে বড় বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে শহরের সড়কে মিছিল করার অধিকার নিয়ে কর্মী ও পুলিশের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়।
এই প্রেক্ষাপটেই নতুন আইন এবং তা নিয়ে চলমান আইনি লড়াই অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ নিউজ.এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au