অস্ট্রেলিয়া

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত: অস্ট্রেলিয়া কি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে?

সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য মোতায়েন পরিকল্পনা, সরকারের অবস্থান নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবটের তীব্র সমালোচনা

  • 9:44 pm - March 09, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৫৬ বার
মার্কিন সেনাবাহিনীর কালার গার্ড একটি সশস্ত্র বাহিনীর অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পতাকা বহন করছে। Photo: Public domain

মেলবোর্ন, ৯ মার্চ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী সম্ভাব্য মধ্যপ্রাচ্য মোতায়েনের জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে সরকারকে বিভিন্ন বিকল্প দেওয়ার জন্য সামরিক নেতৃত্ব প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট বর্তমান অ্যালবানিজ সরকারকে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতে অস্ট্রেলিয়া কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা রাখছে না।

“প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিটি বড় সংঘাতে অস্ট্রেলিয়া পাশে থেকেছে—কোরিয়া যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, উপসাগরীয় যুদ্ধ, আফগানিস্তান এবং আইএসবিরোধী লড়াই। অথচ এখন যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ধ্বংসের জন্য হামলা চালাচ্ছে, তখন অস্ট্রেলিয়া কার্যত কিছুই করছে না।”

নিজের সাম্প্রতিক নিউজলেটারে অ্যাবট লেখেন, “সবকিছু এখন রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা ঘিরে, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো গুরুত্ব নেই।”

তিনি আরও বলেন, “প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিটি বড় সংঘাতে অস্ট্রেলিয়া পাশে থেকেছে—কোরিয়া যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, উপসাগরীয় যুদ্ধ, আফগানিস্তান এবং আইএসবিরোধী লড়াই। অথচ এখন যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ধ্বংসের জন্য হামলা চালাচ্ছে, তখন অস্ট্রেলিয়া কার্যত কিছুই করছে না।”

অ্যাবটের অভিযোগ, “আমাদের কাছে কোনো অনুরোধ আসেনি, আমাদের সঙ্গে পরামর্শও করা হয়নি, এমনকি আমাদের জানানোও হয়নি।” তিনি সরকারের অবস্থানকে “লজ্জাজনক” এবং “অপমানজনক” বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে ইরানে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের খবরও সামনে এসেছে। দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক হামলার মাধ্যমে “সব লাল রেখা অতিক্রম করা হয়েছে।”

তিনি জানান, চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতার আলোচনা “অপ্রাসঙ্গিক”। তবে অন্য কোনো দেশ যদি তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে দেয়, তাহলে ইরান আত্মরক্ষার অধিকার সংরক্ষণ করবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

বাঘাই আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক হামলার মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনা নষ্ট করেছে এবং এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে বিভক্ত করে দেশটির তেলসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং জানিয়েছেন, ইরানের হামলার শিকার কিছু দেশ অস্ট্রেলিয়ার কাছে সহায়তা চেয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অস্ট্রেলিয়া ইরানে কোনো স্থলবাহিনী পাঠাবে না।

তবে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে “ভাল ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক” বজায় রাখতে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য মোতায়েনের জন্য বিকল্প পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। ব্রিসবেনে অবস্থিত অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীর প্রথম ডিভিশন সম্ভাব্য অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। যদিও এতে সরাসরি যুদ্ধ, সহায়তামূলক ভূমিকা বা শান্তিরক্ষী মিশনের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং জানিয়েছেন, ইরানের হামলার শিকার কিছু দেশ অস্ট্রেলিয়ার কাছে সহায়তা চেয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অস্ট্রেলিয়া ইরানে কোনো স্থলবাহিনী পাঠাবে না।

তিনি এবিসিকে বলেন, “আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি, ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনায় আমরা অংশ নেব না।”

তবে সীমিতভাবে অস্ট্রেলিয়ার সম্পৃক্ততা ইতোমধ্যেই দেখা গেছে। গত সপ্তাহে শ্রীলঙ্কার উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি সাবমেরিন ইরানের ফ্রিগেট ‘দেনা’ ডুবিয়ে দেওয়ার সময় ওই সাবমেরিনে তিনজন অস্ট্রেলীয় নৌসদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীর সরাসরি স্থলযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম। বরং বিমানবাহিনী এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান বা রাডার বিমান পাঠাতে পারে, আর নৌবাহিনী সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল রক্ষায় ডেস্ট্রয়ার বা ফ্রিগেট মোতায়েন করতে পারে।

তাদের মতে, ইরানের প্রায় দশ লাখ সেনাসদস্য থাকায় সরাসরি স্থলযুদ্ধে জড়ানো যে কোনো দেশের জন্যই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

-news.com.au

এই শাখার আরও খবর

মাদরাসায় সাত বছরের শিশুকে ছয় মাস ধরে বলাৎকার করছিলেন ৬জন

সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসায় সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ…

বাংলাদেশে পানির লবণাক্ততা: নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল দিন দিন দুর্লভ হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস ও নদীপথে লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে উপকূলের বিস্তীর্ণ…

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় ঢাকায় উদযাপিত হলো জন্মাষ্টমী

যথাযোগ্য মর্যাদায় হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি, শুভ জন্মাষ্টমী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানী ঢাকাসহ…

আরজি করের নারী চিকিৎসক ধর্ষণ-হত্যা: সাবেক পৌর চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মরদেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও তৃণমূল…

ব্রিকসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা, তারেকের সফর নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা

আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, কিংবা তিনি অংশ না নিলে বাংলাদেশের হয়ে অন্য কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেবেন…

বিএনপি নেতাদের অভিনন্দন জানালেন ৩ উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তত তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au