ইরানে এ পর্যন্ত ২০৬ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত: শিক্ষামন্ত্রী আলীরেজা
মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- ইরানের লোরিস্তান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৫২টি স্কুল ও পাঁচটি চিকিৎসা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। প্রদেশটির গভর্নরের…
মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের কাছে অতিরিক্ত জ্বালানি সহায়তা চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বুধবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সহায়তা চেয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি তিনি পেয়েছেন।
প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সহায়তার জন্য পাঠানো আনুষ্ঠানিক চিঠি তিনি গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, যাতে তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চলমান সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রণয় ভার্মা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী সংযোগ গড়ে উঠেছে। এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে একাধিক আন্তসীমান্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চালু রয়েছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছে।
এছাড়া দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি পরিবহনের জন্য পাইপলাইন সুবিধাও চালু রয়েছে। এসব অবকাঠামোর মাধ্যমে জ্বালানি সহযোগিতা আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, ভবিষ্যতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব কি না এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সমন্বয় কীভাবে বাড়ানো যায়, সেসব বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান ভারতীয় হাইকমিশনার।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে, তা দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা অনেক দেশের জন্যই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানো হলে সরবরাহ সংকট মোকাবিলা সহজ হতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au