সর্বশেষ

অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় পেয়েও প্রত্যাখ্যান ইরানি ফুটবলারের

  • 4:19 am - March 12, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৩ বার
ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করার পরও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন ইরানের এক নারী ফুটবলার। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, বুধবার সকালে ওই খেলোয়াড় আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে গিয়ে ইরানি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে টনি বার্ক বলেন, “অস্ট্রেলিয়ায় মানুষের মত পরিবর্তনের এবং ভ্রমণের স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি যে প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমরা তাকে সম্মান জানাই।”

এর আগে ওই ফুটবলারসহ ইরানের নারী ফুটবল দলের মোট সাত সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে সম্মত হয়েছিলেন। এখন বাকি ছয় নারী খেলোয়াড়কে নিরাপত্তার কারণে আলাদা স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আশ্রয় প্রত্যাখ্যান করা খেলোয়াড় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের সময় অন্যদের অবস্থান জানিয়ে দেওয়ায় এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত মাসে এএফসি এশিয়ান কাপে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় আসে ইরানের নারী ফুটবল দল। টুর্নামেন্ট চলাকালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘটনা ইরানের ভেতরে উত্তেজনা তৈরি করে। এর মধ্যে গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে দেশে সমালোচনা শুরু হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাদের “যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক” বলেও আখ্যা দেয়।

এই পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনেকেই, যার মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।

এশিয়ান কাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর গত মঙ্গলবার রাতে দলটি অস্ট্রেলিয়া ছাড়ে। তবে সিডনিতে ইরানি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয়দের একটি অংশ টিম হোটেল ও বিমানবন্দরের সামনে অবস্থান নিয়ে খেলোয়াড়দের দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের আশঙ্কা, ইরানে ফিরলে ফুটবলারদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা দলটি সিডনি ছাড়ার সময় প্রতিটি খেলোয়াড়কে আলাদাভাবে মানবিক আশ্রয়ের প্রস্তাব দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, কোনো চাপ ছাড়াই খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এরপর দলের এক সাপোর্ট স্টাফসহ মোট সাতজন আশ্রয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং তাদের জন্য সাময়িক মানবিক ভিসার ব্যবস্থা করা হয়, যা ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

প্রাথমিকভাবে আশ্রয়ের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিলেন অধিনায়ক জাহরা গানবারি, ফাতেমেহ পাসানদিদেহ, জাহরা সারবালি, আতেফেহ রামেজানিজাদেহ ও মোনা হামুদি।

ইরানি শরণার্থী বিষয়ক আইনজীবী আরা রাসুলি বলেন, যারা দেশে ফিরেছেন তারা গুরুতর ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। তাঁর মতে, পরিবারকে আটক করা বা সম্পত্তি দখলের মতো হুমকির কারণে অনেক খেলোয়াড়ই শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

এই শাখার আরও খবর

নেপালে প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব

মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- নেপালে সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে…

মধ্যপ্রাচ্যে ‘অদৃশ্য যুদ্ধ’: জিপিএস জ্যামিংয়ে বিপাকে জাহাজ ও বিমান চলাচল

মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এখন শুধু গোলাবারুদ বা ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ ব্যবহার করে জিপিএস সিগন্যাল ব্যাহত করার মাধ্যমে শুরু হয়েছে এক…

ইরানে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে, হামলা করার মতো ‘আর কিছুই নেই’: ট্রাম্প

মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- ইরানে চলমান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানে হামলার জন্য কার্যত আর কোনো…

হরমুজ প্রণালীতে তিন কার্গো জাহাজে হামলা, উত্তেজনা বাড়ছে গুরুত্বপূর্ণ জলপথে

মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বুধবার তিনটি কার্গো জাহাজে পৃথক হামলার ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর মধ্যে…

ঢাবি অধ্যাপক জামাল উদ্দিন গ্রেপ্তার

মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা…

ইরানে এ পর্যন্ত ২০৬ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত: শিক্ষামন্ত্রী আলীরেজা

মেলবোর্ন, ১২ মার্চ-  ইরানের লোরিস্তান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৫২টি স্কুল ও পাঁচটি চিকিৎসা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। প্রদেশটির গভর্নরের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au