রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, নির্যাতন ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে দেশব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার ১৩ মার্চ সারা দেশে এই কর্মসূচি পালন করা হবে।
সংগঠনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কেন্দ্রীয় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। একই সময় দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায়ও মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করা হবে।
সংগঠনটির দাবি, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসেই অন্তত ৪২টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
ঘোষণাপত্রে কয়েকটি নির্দিষ্ট অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘু ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। বগুড়া, সাতক্ষীরা ও ফেনী জেলাসহ কয়েকটি স্থানে সম্প্রতি সংখ্যালঘু ব্যক্তিদের হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় ও পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘু নারীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং একটি জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের আইন ও কমিশন গঠন করা হলে দীর্ঘমেয়াদে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেছেন, দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার যে অনুভূতি তৈরি হয়েছে তা দূর করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং দেশের সব ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au