গভর্নর আর এন রবি (বামে)-কে শপথবাক্য পাঠ করাচ্ছেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল (ডানে) , ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ মার্চ- নানা রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। বৃহস্পতিবার কলকাতার লোকভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান সুজয় পাল, যিনি কলকাতা হাই কোর্ট-এর প্রধান বিচারপতি।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বামফ্রন্টের চেয়ারপারসন বিমান বসু এবং মুখ্যসচিব **নন্দিনী চক্রবর্তী**সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে রবীন্দ্র নারায়ণ রবি দীর্ঘ সময় তামিলনাড়ু-এর রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময়ে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম (ডিএমকে)-এর সঙ্গে তার একাধিকবার সংঘাত তৈরি হয়।
বিধানসভায় পাস হওয়া কয়েকটি বিল আটকে রাখার অভিযোগে তামিলনাড়ু সরকার তার বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট-এ মামলা দায়ের করে। সরকারের অভিযোগ ছিল, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব করছেন এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে গড়িমসি করছেন। পরে ওই মামলায় আদালতের রায় তার বিরুদ্ধে যায়।
এছাড়া ডিএমকে নেতৃত্ব তার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করে ক্ষমতা প্রয়োগের অভিযোগও তোলে। এ নিয়ে তামিলনাড়ুতে রাজভবনের সামনে একাধিকবার বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছিল। এমনকি তাকে রাজ্যপাল পদ থেকে অপসারণের দাবিও উঠেছিল।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে রবীন্দ্র নারায়ণ রবি-র নিয়োগ ঘিরেও রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি এই পদে দায়িত্ব নিলেন সি ভি আনন্দ বোস-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে। বোসের আকস্মিক পদত্যাগের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে এর আগে অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্যে বর্তমানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কর্মসূচি বা ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) চলছে, যা নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য সরকারের টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০ লাখ ভোটারকে ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এই পরিস্থিতিতে আগের রাজ্যপালের পদত্যাগ এবং তামিলনাড়ু থেকে সরিয়ে এনে রবীন্দ্র নারায়ণ রবি-কে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সুত্রঃ বিবিসি