শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ মার্চ- বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্মবার্ষিকী বা মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কোনো জাতীয় দিবস পালন করা হবে না। তবে জুলাই অভ্যুত্থান এবং জুলাই শহীদ দিবস যথাযথভাবে পালন অব্যাহত থাকবে।
১১ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৮৯টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এসব দিবসকে এ, বি ও সি-এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি ‘এ’ ক্যাটাগরিতে, ৩৭টি ‘বি’ এবং ৩৫টি ‘সি’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে যেসব জাতীয় দিবস চালু করা হয়েছিল, তা বর্তমান সরকার পুনর্বহাল করবে না। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই দিনে পালন করা হতো:
- ১৭ মার্চ: শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী
- ৫ আগস্ট: শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী
- ৮ আগস্ট: বেগম ফজিলাতুন্নেসা চৌধুরীর জন্মবার্ষিকী
- ১৫ আগস্ট: শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী (জাতীয় শোক দিবস)
বর্তমান প্রজ্ঞাপনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চালু করা দুই দিবসের মর্যাদা বহাল রাখা হয়েছে:
- ৫ আগস্ট: ‘জুলাই অভ্যুত্থান দিবস’
- ১৬ জুলাই: ‘জুলাই শহীদ দিবস’, রংপুরে আন্দোলনের সময় নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের স্মরণে পালন করা হবে
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার একটি নতুন সিদ্ধান্তও অন্তর্ভুক্ত করেছে। লালন শাহর মৃত্যুবার্ষিকী ‘এ’ ক্যাটাগরির দিবস হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। এছাড়া জাতীয় বীমা দিবসের মর্যাদা আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনীয় ও পুনরাবৃত্তিমূলক দিবস পালন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উদযাপন সীমিত রাখতে বলা হয়েছে: জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জা, বড় সমাবেশ বা শোভাযাত্রা না করে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও বেতার ও টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবস পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘বি’ ক্যাটাগরির দিবসগুলো সাধারণত ঐতিহ্যগতভাবে পালন করা হয় বা জাতীয় উন্নয়ন, পরিবেশ ও সামাজিক সচেতনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব দিবসে প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা অংশ নিতে পারেন। সরকারি তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করা যেতে পারে। ‘সি’ ক্যাটাগরির ৩৫টি দিবস নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক হিসেবে সীমিত পরিসরে পালন করা হবে এবং উন্নয়ন তহবিল থেকে আলাদা বরাদ্দ থাকবে না।