ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার জাসিন্তা অ্যালান বলেন, বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত খরচের চাপ কমাতেই নতুন এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। ছবি: usleadlist.com
মেলবোর্ন ১৪ মার্চ: ভিক্টোরিয়া সরকার জানিয়েছে, চলতি বছর পুনর্নির্বাচিত হলে বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হবে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, বাড়ি বিক্রির আগে বিল্ডিং ও কন্ট্রোল ইন্সপেকশন (পোকামাকড়) পরিদর্শনের খরচ ক্রেতা নয়, বরং বিক্রেতাকেই বহন করতে হবে।
বর্তমানে ভিক্টোরিয়ায় সম্ভাব্য ক্রেতাদেরই নিজের খরচে বাড়ির বিল্ডিং ও কন্ট্রোল ইন্সপেকশন করাতে হয়। কিন্তু সরকার বলছে, এই ব্যবস্থা ক্রেতাদের জন্য অন্যায্য এবং ব্যয়বহুল। তাই তারা একটি বাধ্যতামূলক বিল্ডিং ও পেস্ট পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করতে চায়, যা ২০২৭ সালের শুরুতে আইন হিসেবে আনা হতে পারে।
ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী নিক স্টাইকোস বলেন, নতুন ব্যবস্থা চালু হলে ক্রেতাদের জন্য যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়া সহজ এবং সাশ্রয়ী হবে।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যা স্বচ্ছ হবে এবং স্বার্থের সংঘাত থেকে ক্রেতাদের সুরক্ষা দেবে।”
ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার জাসিন্তা অ্যালান বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় ক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়ছে এবং এটি পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আপনি যখন একটি গাড়ি কিনবেন, তখন বিক্রেতাই রোডওয়ার্দি সার্টিফিকেটের খরচ দেন। বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম থাকা উচিত।”
তবে বিরোধীদলীয় নেতা জেস উইলসন এই ঘোষণার সমালোচনা করে বলেন, সরকার এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা দেখাতে পারেনি।
তার মতে, “যদি সরকার সত্যিই এটি বাস্তবায়ন করতে চায়, তবে নির্বাচনের আগে সংসদেই আইন আনতে পারত।”
অন্যদিকে কিছু বিশেষজ্ঞ এই পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিল্ডিং পরিদর্শক ও মাস্টার বিল্ডার্স ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধি অ্যাঞ্জেলা পেরি বলেন, নতুন ব্যবস্থার অপব্যবহার হতে পারে।
তার মতে, “এতে পরিদর্শনের খরচ কমিয়ে আনতে গিয়ে মানহীন রিপোর্ট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অনেক রিয়েল এস্টেট এজেন্ট তাদের পছন্দের পরিদর্শকদের ব্যবহার করতে পারে।”
সরকার জানিয়েছে, নতুন আইনের অধীনে বিক্রেতাদেরই বিল্ডিং ও কন্ট্রোল ইন্সপেকশন রিপোর্ট তৈরি করতে হবে এবং তা সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে বিক্রির আগে সরবরাহ করতে হবে। তবে চাইলে ক্রেতারা নিজস্ব উদ্যোগেও আলাদা পরিদর্শন করাতে পারবেন।

ছবি: ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার জাসিন্তা অ্যালান আজ সকালে প্রস্তাবিত আবাসন সংস্কার নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন। Facbook
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিল্ডিং ও পেস্ট পরিদর্শনের জন্য ক্রেতাদের সাধারণত ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার পর্যন্ত খরচ হয়। অনেক ক্রেতাকে বাড়ি কেনার আগে একাধিকবার পরিদর্শনের জন্য অর্থ ব্যয় করতে হয়। এমনকি প্রায় ১৭ শতাংশ ক্রেতা সাতবার বা তার বেশি পরিদর্শনের জন্য প্রায় ৪,২০০ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করেছেন।
কিছু ক্ষেত্রে খরচ বেশি হওয়ায় প্রায় ১৭ শতাংশ ক্রেতা কোনো পরিদর্শন ছাড়াই বাড়ি কিনতে বাধ্য হন বলেও গবেষণায় দেখা গেছে।
সরকার জানিয়েছে, এই নতুন ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি (ACT)–এর বিদ্যমান মডেল অনুসরণ করা হবে। সেখানে বাড়ি বিক্রির আগে বিক্রেতাকেই বিল্ডিং ও কন্ট্রোল ইন্সপেকশন রিপোর্ট প্রস্তুত করতে হয় এবং তা সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক।
ভিক্টোরিয়া সরকার বলছে, শিল্পখাতের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই নতুন বাধ্যতামূলক পরিদর্শন ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হবে।