বিশ্ব

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের মাঝে ইরান যুদ্ধ: ১৫তম দিনে কী ঘটছে?

  • 10:41 pm - March 14, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৬ বার
বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের মাঝে ইরান যুদ্ধ। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরায়েলের সংঘাত এখন তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল ও বৃহত্তর আকার ধারণ করেছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের ১৫তম দিনেও উত্তেজনা অব্যাহত, যেখানে খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা পরিবেশ আরও অস্থির করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে ইরানের খার্গ দ্বীপে আক্রমণের মাধ্যমে। খারগ দ্বীপ ইরানের প্রধান তেল রপ্তানির কেন্দ্র, যেখানে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয় এবং এটি গালফ ও হরমুজ প্রণালির জরুরি যোগাযোগ রুটের ঠিক আগে অবস্থিত। মার্কিন বাহিনী এখানে সামরিক স্থাপনার ওপর হামলা চালিয়েছে, যদিও তেল অবকাঠামো সরাসরি ধ্বংস করা হয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “যদি ইরান হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়, তেল অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।”

খারগ দ্বীপের উপর সামরিক আক্রমণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং আগ্রাসন ক্ষমতার ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করতে চায়, একই সাথে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে গ্লোবাল জ্বালানি সরবরাহে দিনে ২ মিলিয়ন ব্যারেলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক তেল দামকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

ইরানের প্রতিরোধ এবং এলাকায় গোলযোগ

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এবং তার প্রোক্সি গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র‑সমর্থিত লক্ষ্যগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। ইরান দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা করেছে এবং এই অভিযানটি তাদের বার্ষিক আল‑কুদস দিবসের অংশ, যার লক্ষ্য ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন প্রদর্শন করা।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সৌদি আরব পূর্ব অঞ্চলে ছয়টি ড্রোন ধ্বংস করার কথা ঘোষণা করেছে, কাতার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে এবং বাহরাইনসহ অন্যান্য দেশও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। এসব ঘটনার ফলে সামরিক উত্তেজনা প্রতিদিন বাড়ছে।

বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস সাইটেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যেখানে একটি হেলিপ্যাড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ধোঁয়া ওঠা দেখা গেছে। এই দূতাবাসটি “গ্রিন জোন” নামে পরিচিত, যেখানে অনেক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মিশন রয়েছে। পূর্বে থেকেই ইরান‑সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এই প্রাঙ্গণকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন হামলা চালাচ্ছে, এবারও সেই ধারাবাহিকতায় হামলা ঘটেছে।

লেবানন এবং হিজবুল্লাহ: সংঘাত আরও সম্প্রসারিত

ইসরায়েলের সামরিক অভিযান লেবাননের বিভিন্ন স্থানে জন্ম দিয়েছে বড় ক্ষয়ক্ষতি। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরের পর থেকে ভাইরাসধর্মী সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭৭৩ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের একজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবিক সংগঠনগুলো কঠোর সমালোচনা করেছে। এছাড়া ইউনাইটেড নেশন ইফিল (UNIFIL) শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদর দফতরও ইসরায়েলি গোলাবারুদে আঘাত পেয়েছে।

হিজবুল্লাহর নেতা নইম কামসেম ঘোষণা করেছেন যে তারা “দীর্ঘ বিতণ্ডার” জন্য প্রস্তুত এবং ইসরায়েলের প্রতি প্রতিরোধ চালাবে। এই অবস্থান ইরানের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ২,৫০০ মেরিন সেনা মোতায়েন করেছে, যা মাটির ওপর অপারেশনের ইঙ্গিত না দিলেও যুদ্ধের প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিমান ও সামরিক সাইটগুলোকে ব্যাপক ভাবে লক্ষ্য করে, তাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নাকচ করার দাবি করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাগণ দাবি করেছেন যে ইরানের বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সিস্টেম প্রায় সীমাহীনভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে তারা মনে করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর প্রতিরোধভাষণ এবং হামলার উগ্র রুক্ষতা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এই রণনৈতিক পথ বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা ও তেলের বাজারে ভয়াবহ প্রভাব তৈরি করতে পারে, একই সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে।

খারগ দ্বীপে সামরিক হস্তক্ষেপের পরে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী। যদি এই অঞ্চলের তেল অবকাঠামো কার্যত ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে গ্লোবাল তেল সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি সৃষ্টি হতে পারে, যা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এক্ষেত্রে খারগ দ্বীপের স্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই সংঘাত কেবল সামরিক নয়, বরং কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। দেশগুলো যেমন নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে, তেমনি তেলের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ চ্যানেলগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক আলোচনার চাপ বাড়ছে। অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা ফেরাতে কূটনৈতিক জোরালো উদ্যোগ এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান কর্তব্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এই শাখার আরও খবর

গাইবান্ধায় হিন্দু পরিবারের বাড়িতে গভীর রাতে হামলা, নারীসহ আহত ৪

মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় একটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে গভীর রাতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ…

‘মব’ হামলার পর গ্রেফতার, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- বগুড়ায় গ্রেফতার হয়ে কারাবন্দি থাকা আওয়ামী লীগ নেতা শাহনূর আলম শান্ত (৬০) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার রাতে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ…

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকা হলে রাজপথে আন্দোলন

মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকা হলে তারা রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলবে। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে…

যেভাবে ইরানের ‘অর্থনীতির হার্টে’ হামলা করে যুদ্ধে জিততে চাইছেন ট্রাম্প

মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, আমেরিকা ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধের ১৫তম দিনে এসে দেশটির ‘অর্থনীতির হার্ট’ বা ‘মেরুদণ্ড’ হিসেবে পরিচিত খার্গ দ্বীপে অবস্থিত সামরিক…

মন্দিরের পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবায়েত ৩ হাজার টাকা

মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সম্মানী প্রদানের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। শনিবার (১৪…

অস্ট্রেলিয়ায় ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ

মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- আগামী ২০ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এ বছর ঈদুল ফিতরের দিন নির্ধারণ করেছে অস্ট্রেলিয়ার ফতোয়া…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au