সীতাকুণ্ডে হিন্দু পরিবারের বসতিতে অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই ১৪ ঘর
মেলবোর্ন, ১৫ মার্চ- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের বহরপুর গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রান্নাঘরসহ অন্তত ১৪টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার…
মেলবোর্ন, ১৫ মার্চ- রঞ্জিত কুরী, তিপ্পান্ন বছরের এই হিন্দু ব্যক্তি প্রাণের ভয়ে চাঁদাও দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারেনি নিজেকে। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর প্রতিবেশীর পুকুর থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ড. ইউনূসের সরকারের সময় হিন্দুদের ওপর যে ধারাবাহিক হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়েছিল, বিএনপি সরকারের আমলে তা বন্ধ হয়নি। তারেক রহমানের ক্ষমতা গ্রহণের এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশে কমপক্ষে ১০ জন হিন্দু ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। যেসব ঘটনায় বেশির ভাগ অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
প্রতিবেশী হেঞ্জু মিয়ার পুকুরে লাশ
নিহত রঞ্জিত কুরী নোয়াখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রামশংকর এলাকার প্রকাশ চন্দ্র কুরীর ছেলে। বাঁধেরহাট বাজারে ওষুধের ব্যবসা করতেন তিনি। স্থানীয় সময় শনিবার বেলা ১১টার দিকে তারই প্রতিবেশী হেঞ্জু মিয়ার পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে রঞ্জিত কুরীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে গতকাল শুক্রবার সুধারাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার স্ত্রী শিল্পি রানী কুরী।
আজ সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা হেঞ্জু মিয়ার বাড়ির পুকুরে একটি লাশ ভাসতে দেখেন। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
৩০ হাজার টাকা চাঁদা নেন এক ব্যক্তি
শিল্পি রানী কুরী সাংবাদিকদের বলেন, তার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন আগে বাঁধেরহাট বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দত্তেরহাট এলাকায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা টাকাপয়সা নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। ওই ঘটনার পর একই এলাকার এক ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে এসে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নেন। চাঁদা দেওয়ার পর বুধবার রাতে তার স্বামী নিখোঁজ হন এবং আজ তার লাশ পাওয়া যায়।
আইনের আশ্রয় নিতে যাওয়াতেই হত্যা?
ছিনতাইয়ের ঘটনার পর রঞ্জিত কুরী পরিচিতজনদের বিষয়টি জানান। এমনকি বাড়িতে এসে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টিও তাদের জানান। এ বিষয়ে সহযোগিতাও চান তিনি। আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই নিখোঁজ হয়ে যান। পরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। যে পুকুরে রঞ্জিত কুরীর লাশ পাওয়া গেছে, সেখানে তার যাওয়ার কথা নয় বলেও স্থানীয় লোকজন জানান।
পুলিশের গা-ছাড়া ভাব
রঞ্জিত কুরীর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের কাছে বারবার অনুরোধের পরও উদ্ধার তৎপরতায় অবহেলা করেছে। এমনকি সাধারণ ডায়েরি করার পরও তারা সঠিক দায়িত্ব পালন করেনি।
তবে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, নিহত ব্যক্তি আগে থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া বা বাড়ি থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বিএনপি সরকারের আসলেও থামছে না হিন্দু হত্যা
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতাদের ধারণা ছিল, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুদের ওপর হত্যা, হামলা ও নির্যাতন থেমে যাবে। বিশেষ করে ড. ইউনূস সরকারের আমলের ভয়াবহ নির্যাতনের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবে। কিন্তু তা হয়নি। তাদের দাবি, হিন্দুরা বিএনপিকে ভোট দিয়েও বাঁচতে পারছে না। একের পর এক হিন্দু হত্যা চলছেই।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au