আইসিইউতে ধর্ষণের শিকার শিশু, মাদ্রাসা সুপার আটক
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসা পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সাইদুর রহমানকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।…
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- বাংলাদেশে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও অধিবেশন ডাকা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও সরকার জানিয়েছে, সংবিধান সংশোধন ছাড়া এ ধরনের কোনো পরিষদ গঠন করা সম্ভব নয়।
রোববার বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত সংসদের সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানও রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই অধিবেশন ডাকা হয়নি।
জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। ফলে সংবিধান সংশোধন না করে এমন কোনো পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধনের মতো বিষয় কোনো অধ্যাদেশ বা রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে করা যায় না। এজন্য সংসদে আলোচনা ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচনার ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়।
পরে একই বছরের ১৩ নভেম্বর ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এই আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার বিষয়ে জনগণের মতামত জানতে ২৫ নভেম্বর গণভোট অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

জুলাই সনদ স্বাক্ষর করেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা , ছবিঃ বিবিসি
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটই জয়ী হয়েছে।
সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। তবে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শুধুমাত্র সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
বিএনপি তখনই জানায়, সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো বিধান না থাকায় তারা সেই শপথ নেননি।
এদিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে। জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সরকার যদি এ বিষয়ে উদ্যোগ না নেয়, তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে নামবে তাদের জোট।
জোটভুক্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানিয়েছেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে তারা এই বিষয়ে রাজনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, বিএনপি সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যায়নি। বরং তারা সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে বিল আনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তার মতে, এখন বিষয়টি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে টিকে থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে বিরোধী দলগুলো কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে তার ওপর।
ফলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে আপাতত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au