পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে বাংলাদেশ দল। ছবি- সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে রোমাঞ্চকর জয়ে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ দল। টানটান উত্তেজনায় ভরা ম্যাচের শেষ মুহূর্তে চোট পেয়েও বল করে দলকে জয়ের পথে রাখেন পেসার Mustafizur Rahman। তার এই সাহসিকতার প্রশংসা করে বাংলাদেশ অধিনায়ক Mehidy Hasan Miraz বলেছেন, মুস্তাফিজকে স্যালুট দেওয়া উচিত।
ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান Shaheen Afridi-র জোরালো শটে বল সরাসরি গিয়ে লাগে মুস্তাফিজের হাঁটুতে। আঘাতের তীব্রতায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল শেষ ওভারটি আর করা সম্ভব হবে না তার পক্ষে। এমনকি মাঠে স্ট্রেচারও নিয়ে আসা হয়।
কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে দাঁড়িয়ে যান মুস্তাফিজ। প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি আবারও রানআপে ফিরে আসেন এবং ওভারের শেষ বলটি করেন। সেই বলেই পাকিস্তানের পেসার Haris Rauf-কে আউট করে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এনে দেন তিনি।
ম্যাচ শেষে সেই সময়ের কথা স্মরণ করে অধিনায়ক মিরাজ বলেন, মুস্তাফিজ বাংলাদেশের হয়ে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন। কঠিন চাপের মুহূর্তে যেভাবে তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন, সেটি সত্যিই অসাধারণ। মিরাজের ভাষায়, এমন মানসিক শক্তির জন্য তাকে স্যালুট দেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, মুস্তাফিজের আঘাত দেখে কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। শেষ বলটি কে করবেন তা নিয়েও ভাবছিলেন। তবে মুস্তাফিজ নিজেই তাকে জানান, পরিস্থিতি যেমনই হোক তিনি শেষ বলটি করবেন। সেই আত্মবিশ্বাসই দলের জন্য বড় প্রেরণা হয়ে ওঠে।
শেষ বলটি করার পর মুস্তাফিজ মাঠের বাইরে চলে যান। এরপর বোলিংয়ের দায়িত্ব নেন স্পিনার Rishad Hossain। নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে তিনি পাকিস্তানের রান তোলার গতি থামিয়ে দেন এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১১ রানের জয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচ শেষে মুস্তাফিজের চোট সম্পর্কে মিরাজ জানান, বলটি খুব জোরে লাগায় পায়ে সামান্য আঘাত পেয়েছেন তিনি। তবে এখন অনেকটাই ভালো আছেন বলে জানান অধিনায়ক।
এই জয়ে সিরিজ জেতায় দলের সবাই দারুণ আনন্দিত বলেও জানান মিরাজ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জিতলে স্বাভাবিকভাবেই সবার ভালো লাগে। এই সিরিজটি দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ সামনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের বিষয়ও রয়েছে। তাই প্রতিটি সিরিজই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মুস্তাফিজের বোলিং বাংলাদেশকে বড় সুবিধা এনে দেয়। তিনি পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান Abdul Samad-কে ফিরিয়ে প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ ভাঙেন। পরে অধিনায়ক Salman Agha-র সঙ্গে গড়ে ওঠা জুটিও ভাঙেন তিনি, আউট করেন Saad Masood-কে।
মোট ১০ ওভার বোলিং করে ৫৪ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন বাঁহাতি এই পেসার। তার এই পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের নাটকীয় জয়ে বড় ভূমিকা রাখে।