মেলবোর্ন, ১৯ মার্চ- ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধ ২০তম দিনে পৌঁছেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কে জিতেছে? শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ বিজয় উল্লাস করবে? তবে আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, অসম এই যুদ্ধ নিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিত করে দিতে পারছে না কেউ। যদিও এরই মধ্যে ‘আমরা জিতেছি’ বলে কয়েকবার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু আদৌ কি তার সেই দাবি সত্যি?
কী বলছে দুই পক্ষ
গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ভাষণে মাত্র ১৩ সেকেন্ডের মধ্যে কমপক্ষে পাঁচবার ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার বিজয় ঘোষণা করেন। তবে, ইরান এই যুদ্ধ নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরেছে। তেহরান ‘গর্বিত প্রতিরোধ’ এর কথা উল্লেখ করে বলেছে, ইসরায়েল-আমেরিকা ভালো শিক্ষা পেয়েছে। এখন ইরানিরা জোর দিয়ে বলেছে, ‘যতদিন প্রয়োজন, ততদিন’ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত তারা।
মধ্যস্থতা, যুদ্ধবিরতির লক্ষণ নেই
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধ শুরু পর থেকেই মধ্যস্থতার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে চীন। পাশাপাশি রাশিয়াও প্রস্তাব করেছে মধ্যস্থতার। কিন্তু কোনো পক্ষই এই প্রস্তাবে কার্যকর সাড়া দেয়নি। এমনকি ইসরায়েল-আমেরিকা এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেও চীন বলেছে, তারা যুদ্ধ বন্ধে চেষ্টা চালিয়ে যাবে। আবার যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব কোনো পক্ষ না দিলেও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে ডাহাজ চলাচলের প্রস্তাব এসেছে দুইপক্ষ থেকেই। এই প্রণালি অবরোধের কারণে এরই মধ্যে সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলে দামে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এছাড়াও দুইপক্ষই বড় ধরনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে।
মূল লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে ইসরায়েল-আমেরিকা?
যেসব উদ্দেশ্য নিয়ে ইসরায়েল-আমেরিকা এই যুদ্ধ শুরু করেছিল তিন সপ্তাহে তা অর্জিত হয়েছে কি না- সেই প্রশ্ন উঠে গেছে দুই দেশের জনগণের মাঝে। এমন কি যুদ্ধের শুরুতে ‘সহজেই ইরানকে কাবু করে ফেলা যাবে’- এই বক্তব্যের বাস্তবতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না যুদ্ধে ময়দানে।
গত সপ্তাহে আমেরিকার কেন্টাকিতে এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যুদ্ধে জিতেছি’। কিন্তু এরপরই হঠাৎ করেই মত পাল্টে তিনি বলেন, ‘আমরা তাড়াতাড়ি চলে যেতে চাই না, তাই না? আমাদের কাজটা শেষ করতে হবে’। তার এমন দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনই বলে দেয় যুদ্ধের ফল তাদের পক্ষে নেই।

ছবি: সংগৃহীত
শীর্ষ নেতৃত্ব হারিয়েও দমে যায়নি ইরান
যুদ্ধ শুরু প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কয়েকজন নেতা ও জেনারেল। ধারণা করা হয়েছিল, এতে দ্রুতই ভেঙে পড়বে তাদের নেতৃত্ব। কিন্তু ইসরায়েল-আমেরিকাকে অবাক করে দিয়ে তেহরান ভেঙে পড়েনি। বরং শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতাও নির্বাচিত করেছে কোনো রকম ঝামেলা ছা্ড়াই। এতে ইরান পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত করে কঠোর প্রতিশোধ নিচ্ছে।
এরই মধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরায়েল-মার্কিন স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। এমনকি আমেরিকার মিত্র হিসেবে পরিচিত উপসাগরীয় দেশগুলোতেও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন ইরান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা প্রায় ছয় মাস ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম।
ইরানের নেতৃত্বকে নির্মূল করাই মূল উদ্দেশ্য
সবশেষ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, বাসিজ ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলামরেজা সোলেইমানি, গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খাতিবসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্ব ইসরায়েল-আমেরিকান যৌথ হামলায় নিহত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর আলী খামেনিসহ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর আরও কয়েকজন সিনিয়র কমান্ডার নিহত হয়।
এসব হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে এই যুদ্ধে ইসরায়েল-আমেরিকার প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ইরানের নেতৃত্বকে নির্মূল করা। এরই মধ্যে তেহরানের শীর্ষ কমান্ডারদের নিশ্চিহ্ন করে প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন করেছে তারা। কিন্তু তারপরও আসল লক্ষ্য অপূর্ণ রয়ে গেছে। দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন ঘটেনি। উল্টো ক্ষমতা দ্রুত হস্তান্তরিত হয়েছে। আলী খামেনির ছেলে মোজতবাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি ইরানে কোনো গণঅভ্যুত্থানও ঘটেনি।
ইউরেনিয়ামের খোঁজ নেই
ইসরায়েল-আমেরিকা তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে অচল করে দিতে পেরেছে। কিন্তু যে কয়েকশ কেজি সম্মৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে চেয়েছিল, তার হদিস এখনো পায়নি তারা। এমনকি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ধ্বংস করাও সম্ভব হয়নি। তাই সামরিকভাবে এখনও ইরানের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। ইসরায়েল ও মিত্র দেশগুলোতে প্রতিদিনই শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যহত আছে।
এ নিয়ে মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার বলেছে, তেহরান ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। গত ১৫ মার্চের মূল্যায়নে তারা উল্লেখ করেছে, চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান অভিযান সত্ত্বেও ইরান একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নতুন ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত ব্যবস্থার ব্যবহার এবং ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা পুরোপরি ধ্বংস হয়নি। যা ছিল গত কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

হামলার জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে ‘শাহেদ’ ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত
অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী
বর্তমানে হরমুজ প্রণালী অস্থিতিশীল ও সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্য পঙ্গু হয়ে গেছে। তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে মার্কিন কৌশলের একটি গুরুতর ব্যর্থতার স্থান বলে অভিহিত করেছেন। এই বিঘ্ন বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশকে প্রভাবিত করেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পারস্য উপসাগরের এই সংকীর্ণ পথটি খোলার জন্য ওয়াশিংটন এখন মিত্র ও শত্রু দেশগুলোর সমর্থন চাইছে। কিন্তু মার্কিন মিত্র ইউরোপীয় নেতারা, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী সাহায্যের আহ্বানে সাড়া দেননি। উল্টো বলেছে, এই যুদ্ধ আমাদের না। আমরা এটা শুরু করিনি।
ইরানের গর্বিত প্রতিরোধ কৌশল
তেহরানের দৃষ্টিকোণ থেকে ধরলে বলা যায়, হ্যাঁ সেই কৌশল কাজ করেছে। তবে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত। ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় এই যুদ্ধকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, তারা একটি দীর্ঘ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম। দেশটির আলী জাফরীর মোজাইক প্রতিরক্ষা মতবাদ নিশ্চিত করে, ইরান যুদ্ধে জিততে না পারলেও হারবে না।
ইরানি নেতারা দাবি করছেন, ইতোমধ্যেই তাদের প্রতিপক্ষদের ওপর চড়া মূল্য চাপিয়ে দিয়েছেন তারা। উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপকভাবে হামলা চালানো হয়েছে। কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব এবং কুয়েতের অবকাঠামো ও রসদ সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতেও ইরান হামলা চালিয়েছে।
কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, ইরান যুদ্ধক্ষেত্র পরিবর্তন করে দিয়েছে। সরাসরি সংঘাতের পরিবর্তে, দেশটি মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এই সংঘাতকে প্রসারিত করেছে। সামুদ্রিক বিশৃঙ্খলা, জ্বালানি চাপ, প্রক্সি হামলা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে সন্ত্রাস ব্যবহার করে ইরান অনুভূমিক সংঘাতের দিকে ঝুঁকছে। এর জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে আধিপত্যের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন সহনশীলতা।
যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী ইরানের তত লাভ
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিচালক এমিল হোকায়েম বলছেন, এতটা মার খাওয়ার পর ইরানি শাসকগোষ্ঠীর পিছু হটার সম্ভাবনা কম, কারণ তাদের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান, সময় এবং অপ্রতিসমতা। ইরান আরও বেশি অবস্থান থেকে আরও বেশি দেশ ও এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, অন্যদের জন্য এর মূল্য তত বাড়বে, এবং ইরানি শাসকগোষ্ঠীর কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা অনেক বেশি। যখন টিকে থাকাই মূল লক্ষ্য, তখন সবকিছুই চলে।
মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি
আর্থিক ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতি দ্রুতগতিতে বাড়ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ নারী ও শিশুসহ ১৮০০ জনেরও বেশি মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজেদের কর্মীদের হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আমেরিকান ও ইসরায়েলি হতাহতের সংখ্যা সীমিত হলেও তা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
অর্থনৈতিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের প্রভাব ব্যাপক এবং তা বিশ্বব্যাপী অনুভূত হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে। ইরানের প্রক্সি, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী, যুদ্ধে যোগ দেওয়ার হুমকি দিয়ে আরেকটি কৌশলগত প্রণালী, বাব-আল-মানদেবকে অবরুদ্ধ করতে পারে। এই দুটি প্রণালীই অবরুদ্ধ হয়ে গেলে তা হবে বিপর্যয়কর। একাধিক প্রতিবেদন অনুসারে, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারকে প্রভাবিত করেছে।

ছবিঃ সংগৃহীত
কীভাবে যুদ্ধের অবসান হতে পারে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধের অবসানের চাবিকাঠি হিসেবে কোনো একটি সুস্পষ্ট পথ নেই। যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরান তিনটি শর্ত দিয়েছে। তারা তাদের ‘বৈধ অধিকার’-এর স্বীকৃতি চায়, বিশেষ করে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের অধিকার। তারা মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে। সবশেষে, তেহরান দৃঢ় আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা চাইছে যাতে ভবিষ্যতে তাদের ওপর এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের অবসানের একটি সম্ভাবনা হলো দীর্ঘস্থায়ী মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা। এই হামলা ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকবে যতক্ষণ না ইরান চাপের মুখে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়। আরেকটি পরিস্থিতি হলো সংঘাত বৃদ্ধি। যদি হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে আরও কঠোর সামরিক হস্তক্ষেপের কথা বিবেচনা করতে পারে।
তৃতীয় একটি পথ হলো মধ্যস্থতা। ভারত, কাতার এবং চীনের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে আসতে পারে। বস্তুত, বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মধ্যস্থতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব বলেছেন, ‘আমাদের একটি যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। আমি ভাবছি ভারত আদৌ এতে জড়িত হতে পারবে কি না’।
এই মুহূর্তে জিতছে কে?
সামরিকভাবে, আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক গুরুত্বপূর্ণ এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তারা ইরানের শীর্ষ নেতাদের নির্মূল করেছে। শুধু বুধবারেই, ইসরায়েলিরা দাবি করেছে, তারা আলী লারিজানিকে হত্যা করেছে, যিনি ইরানের নিরাপত্তা কৌশল পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন এবং এই সংঘাতের মধ্যে তেহরানের মুখ হয়ে উঠেছিলেন। এছাড়াও ইসরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌ সক্ষমতার কিছু অংশও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
কিন্তু কৌশলগতভাবে, চিত্রটি মিশ্র। ইরান লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এটি আত্মসমর্পণ করেনি। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করেছে। এটি ট্রাম্পকে অন্যান্য দেশের সাথে বৃহত্তর আঞ্চলিক সম্পৃক্ততার পথ খুঁজতে বাধ্য করেছে। সর্বোপরি, হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক যান চলাচল অচল করে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা এই প্রত্যাশাকে ভুল প্রমাণ করেছে যে, আমেরিকা এই যুদ্ধের কৌশল আগে থেকেই অনুমান করে রেখেছিল।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে, ‘হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে এক জটিল টানাপোড়েনই ইরান যুদ্ধের গতিপথ নিয়ে ট্রাম্পের পরিবর্তনশীল প্রকাশ্য বিবৃতির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে’। এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার সময়েও ট্রাম্পের সহযোগীরা কখন এবং কীভাবে বিজয় ঘোষণা করা হবে তা নিয়ে বিতর্ক করছেন।
কে জিতছে- এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অমীমাংসিত
আমেরিকান ও ইসরায়েলি নেতৃত্ব যুদ্ধে বিজয়ের দাবি করছে। আর ইরানি নেতৃত্ব টিকে থাকার কথা বলছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনও নিশ্চিত নয় যে, তারা ইরানে সৈন্য নামাবে কি না। এখন সত্যিটা হলো যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সুবিধা থাকতে পারে, কিন্তু ইরান তার টিকে থাকা এবং বিশ্ব বাণিজ্যকে ওলটপালট করে দেওয়ার ক্ষমতার মাধ্যমে কৌশলগত সুবিধা ধরে রেখেছে।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট এ পেপ বলেছেন, ‘শুধুমাত্র বিমান শক্তি দিয়ে খুব কমই শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন আনা যায়’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে খুব কম যুদ্ধেই সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছে। বেশিরভাগ যুদ্ধই অস্পষ্টতার মধ্যে শেষ হয়েছে।
তবে যুদ্ধের বাস্তব চিত্র হল ইসরায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলা অব্যাহত রয়েছে। আবার ইরানের পাল্টা হামলাও চলছে। তাই কে জিতছে- এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অমীমাংসিত।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি , ছবিঃ সংগৃহীত