অস্ট্রেলিয়া

২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ১০ ধনী: খনি, প্রযুক্তি ও সম্পদের নতুন সাম্রাজ্য

লোহা, প্রযুক্তি, রিয়েল এস্টেট ও অবকাঠামো—বিভিন্ন খাতে আধিপত্য বিস্তার করে অস্ট্রেলিয়ার ধনকুবেররা গড়ে তুলেছেন বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য

  • 6:39 pm - March 20, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৭০ বার

মেলবোর্ন, ২০ মার্চ: অস্ট্রেলিয়ার ধনী তালিকা আবারও প্রমাণ করল—এই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এখনও খনি, সম্পদ ও রিয়েল এস্টেট। তবে দ্রুত উঠে আসছে প্রযুক্তি খাত, বিশেষ করে ক্যানভা-র মতো উদীয়মান কোম্পানির হাত ধরে। ২০২৬ সালের শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকায় দেখা গেছে পুরনো শিল্পের পাশাপাশি নতুন অর্থনীতির শক্ত অবস্থান। চলুন এবার দেখে নেয়া যাক কারা রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকায়:

১. শীর্ষে জিনা রাইনহার্ট

Gina Rinehart — অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনী ও খনি সাম্রাজ্যের প্রধান শক্তি। (ছবি: সংগৃহীত)

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে আবারও শীর্ষে অবস্থান ধরে রেখেছেন জিনা রাইনহার্ট, যার মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৪১.৬৬ বিলিয়ন ডলার।
লোহা আকরিকের দামে সামান্য পতন ঘটলেও তার প্রতিষ্ঠান Hancock Prospecting এখনও শক্তিশালী নগদ প্রবাহ তৈরি করছে। Roy Hill খনি এবং Rio Tinto–র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ Hope Downs প্রকল্প তার ব্যবসার প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি কৌশলগতভাবে লিথিয়াম, বিরল খনিজ, কৃষি ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পথ সুদৃঢ় করছেন।

২. রিয়েল এস্টেটের সম্রাট হ্যারি ট্রিগুবফ

Harry Triguboff — আবাসন খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও Meriton প্রতিষ্ঠাতা। (ছবি: সংগৃহীত)

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন হ্যারি ট্রিগুবফ, যার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৪.১০ বিলিয়ন ডলার। Meriton-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি অস্ট্রেলিয়ার আবাসন খাতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
এ পর্যন্ত তিনি ৮০ হাজারেরও বেশি অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করেছেন এবং বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি ইউনিট উন্নয়নাধীন রয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো—তার ব্যবসায়িক মডেলে এখন ভাড়া খাত থেকে অর্জিত আয় অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির আয়কে ছাড়িয়ে গেছে, যা তাকে আরও স্থিতিশীল আর্থিক অবস্থানে নিয়ে গেছে।

৩. প্যাকেজিং থেকে বৈশ্বিক শক্তি—অ্যান্থনি প্র্যাট

Anthony Pratt — বৈশ্বিক প্যাকেজিং ও পুনর্ব্যবহার শিল্পের অন্যতম নেতা। (ছবি: সংগৃহীত)

অ্যান্থনি প্র্যাট, যার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০.০৫ বিলিয়ন ডলার, পুনর্ব্যবহার ও প্যাকেজিং শিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক সাম্রাজ্য। Visy এবং Pratt Industries–এর মাধ্যমে তিনি অস্ট্রেলিয়া ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছেন।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে তার বহুমূল্য বিনিয়োগ শিল্প খাতের পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। টেকসই উৎপাদন ও পুনর্ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে প্র্যাট নিজেকে বৈশ্বিক উৎপাদন খাতের অন্যতম প্রভাবশালী উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

৪. বিতর্কিত কিন্তু প্রভাবশালী—ক্লাইভ পামার

Clive Palmer — খনি ব্যবসায়ী ও আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। (ছবি: সংগৃহীত)

চতুর্থ স্থানে রয়েছেন ক্লাইভ পামার, যার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২২.৪৪ বিলিয়ন ডলার। খনি ব্যবসা ও রাজনীতিতে সমানভাবে সক্রিয় এই উদ্যোক্তা অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব।
CITIC-এর Sino Iron প্রকল্প থেকে তিনি বিপুল পরিমাণ রয়্যালটি আয় করে থাকেন, যা তার সম্পদের প্রধান উৎস। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন—তার প্রতিষ্ঠিত “Trumpet of Patriots” দল ইতোমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

৫ ও ৬. প্রযুক্তির উত্থান—ক্যানভা যুগ- ক্লিফ ওব্রেখট ও মেলানি পারকিন্স

Cliff Obrecht — Canva সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রযুক্তি খাতের উদীয়মান শক্তি। (ছবি: সংগৃহীত)

Melanie Perkins — Canva সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও বৈশ্বিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। (ছবি: সংগৃহীত)

এই তালিকায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে প্রযুক্তি খাতে, যেখানে দ্রুত উত্থান ঘটেছে ক্যানভা–র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্লিফ ওব্রেখট ও মেলানি পারকিন্সের। তাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৮.৩৩ বিলিয়ন ডলার।
২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত Canva এখন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যার ব্যবহারকারী সংখ্যা ২৬০ মিলিয়নেরও বেশি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সংযোজনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আরও দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। ধারাবাহিক মুনাফা ধরে রেখে ক্যানভা এখন ২০২৬ সালে সম্ভাব্য আইপিও (IPO)–এর দিকে এগোচ্ছে, যা অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি বড় মাইলফলক হতে পারে।

৭. স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে নিকোলা ফরেস্ট

Nicola Forrest — বিনিয়োগকারী ও সমাজসেবামূলক উদ্যোগের প্রভাবশালী মুখ। (ছবি: সংগৃহীত)

নিকোলা ফরেস্ট, যার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৭.৯৬ বিলিয়ন ডলার, বর্তমানে স্বতন্ত্রভাবে নিজের বিনিয়োগ ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করছেন।
স্বামী থেকে আলাদা হওয়ার পর তিনি নিজস্ব আর্থিক ও দাতব্য উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করেছেন। বিশেষ করে শিশু কল্যাণ ও প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে তার কাজ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।

৮. অ্যান্ড্রু ‘টুইগি’ ফরেস্ট: ব্যবসা ও বিতর্ক

Andrew “Twiggy” Forrest — Fortescue প্রধান ও খনি শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। (ছবি: সংগৃহীত)

অ্যান্ড্রু ‘টুইগি’ ফরেস্ট, যার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৬.৭২ বিলিয়ন ডলার, Fortescue-এর মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিশাল খনি সাম্রাজ্য।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার নাম একাধিক আইনি ও পরিবেশগত বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়েছে, যা তাকে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। এর পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সক্রিয়—বিশেষ করে ইউক্রেনসহ বিভিন্ন মানবিক সংকটে বড় অঙ্কের সহায়তা প্রদান করে বৈশ্বিক দাতব্য উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

৯. ওয়াল স্ট্রিটে অস্ট্রেলিয়ান সাফল্য—মাইকেল ডরেল

Michael Dorrell — বৈশ্বিক অবকাঠামো বিনিয়োগে সফল অস্ট্রেলিয়ান উদ্যোক্তা। (ছবি: সংগৃহীত)

মাইকেল ডরেল, যার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৪.৩৫ বিলিয়ন ডলার, Stonepeak-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বৈশ্বিক অবকাঠামো বিনিয়োগে এক প্রভাবশালী নাম হয়ে উঠেছেন।
নিউইয়র্কভিত্তিক এই বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে তিনি জ্বালানি, পরিবহন, যোগাযোগ এবং বিশেষ করে ডাটা সেন্টার ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)–নির্ভর অর্থনীতির প্রসারের ফলে এসব বিনিয়োগ থেকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করছেন তিনি।

১০. মিডিয়া ও শিল্পের সংযোগ—কেরি স্টোকস

Kerry Stokes — মিডিয়া ও শিল্প খাতের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। (ছবি: সংগৃহীত)

তালিকার দশম স্থানে রয়েছেন কেরি স্টোকস, যার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৩.৫৫ বিলিয়ন ডলার।
Seven Group Holdings–এর মাধ্যমে তিনি খনি সেবা, নির্মাণ সামগ্রী ও জ্বালানি খাতে শক্তিশালী ব্যবসায়িক অবস্থান গড়ে তুলেছেন। যদিও তিনি মিডিয়া জগতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, বাস্তবে তার সম্পদের বড় অংশই এসেছে শিল্প ও অবকাঠামোভিত্তিক বিনিয়োগ থেকে, যা তাকে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

২০২৬ সালের শীর্ষ ধনীদের তালিকা বিশ্লেষণ করলে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লোহা আকরিকসহ প্রাকৃতিক সম্পদ এখনও দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বৃহৎ খনি প্রকল্প ও বৈশ্বিক চাহিদা এই খাতকে অব্যাহতভাবে শক্তিশালী করে তুলছে। Canva–এর মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উত্থান দেখাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়া ধীরে ধীরে ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বৈশ্বিক বাজারে সম্প্রসারণ এই খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনীরা এখন কেবল দেশীয় বাজারে সীমাবদ্ধ নন। যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বাজারে বড় বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা তাদের প্রভাব ও সম্পদের পরিধি বিস্তৃত করছেন।

এই শাখার আরও খবর

ইরানে হামলায় মার্কিন বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল যুক্তরাজ্য

মেলবোর্ন, ২১ মার্চ- পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ইরানের সামরিক সক্ষমতার…

বক্স অফিস কাপাচ্ছে ‘ধুরন্ধর টু’

মেলবোর্ন, ২১ মার্চ- বলিউডের দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে বক্স অফিসে নতুন দাপট দেখাতে শুরু করেছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। ১৯ মার্চ বিশ্বজুড়ে মুক্তির প্রথম দিনেই সিনেমাটি রীতিমতো…

মধ্যপ্রাচ্যে মেরিন সেনা ও উভচর যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মেলবোর্ন, ২১ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সেখানে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, অঞ্চলটিতে মেরিন সেনা এবং একটি…

ইরাক থেকে নিরাপত্তা পরামর্শক মিশন প্রত্যাহার করলো ন্যাটো

মেলবোর্ন, ২১ মার্চ- উত্তর ইরাকে ইরানের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটি থেকে নিজেদের নিরাপত্তা পরামর্শক মিশন প্রত্যাহার করে নিয়েছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। জোটটির পক্ষ থেকে…

ইরানে ফার্সি নববর্ষ বা নওরোজের আগে নতুন করে হামলা ইসরায়েলের

মেলবোর্ন, ২১ মার্চ- ফার্সি নববর্ষ নওরোজের ঠিক আগমুহূর্তে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির রাজধানী তেহরানসহ কাস্পিয়ান সাগর উপকূলবর্তী নুর অঞ্চলে হামলার খবর…

কাতারে হামলার পর গ্যাস সংকটের শঙ্কা, কী করছে বাংলাদেশ?

মেলবোর্ন, ২১ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। বিশেষ করে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au