নিরাপদ পানি বঞ্চিত বাংলাদেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ, ঝুঁকিতে শিশুস্বাস্থ্য
মেলবোর্ন, ২২ মার্চ- বাংলাদেশের প্রায় ১০ কোটিরও বেশি মানুষ এখনও নিরাপদ পানীয় জলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষ করে শিশুদের জন্য বড় ধরনের…
মেলবোর্ন, ২২ মার্চ- উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নস্থলকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করে তোলা বিশিষ্ট প্রত্নতত্ত্ববিদ, লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান আর নেই। শনিবার (২১ মার্চ) পবিত্র ঈদের দিন বেলা সাড়ে ১১টায় নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বটেশ্বর গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতাও ছিল তাঁর। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রাজধানীর হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন মেয়ে ও পাঁচ নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
১৯৩৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বটেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হাবিবুল্লা পাঠান। তাঁর পিতা হানিফ পাঠান ছিলেন একজন খ্যাতিমান লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও গবেষক এবং মা মেহেরুন্নেসা। পিতার হাত ধরেই প্রত্নতত্ত্ব ও লোকসংস্কৃতির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। ১৯৫৫ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালেই তিনি পিতার সঙ্গে উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নস্থলের গবেষণায় যুক্ত হন।
পিতাপুত্রের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলেই উয়ারী-বটেশ্বর এলাকায় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ শুরু হয় এবং ২০০০ সালে সেখানে খননকাজের সূচনা হয়। তাদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘বটেশ্বর প্রত্ন সংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার’ আজও তিন হাজার বছরের পুরোনো নিদর্শন, দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ ও ঐতিহাসিক দলিলের এক গুরুত্বপূর্ণ ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত।
গবেষণা ও সাহিত্যচর্চায়ও ছিল তাঁর সমান দখল। তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন, যার মধ্যে লোকসাহিত্য, প্রাচীন ইতিহাস ও আঞ্চলিক সংস্কৃতি বিষয়ক বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। ২০১৩ সালে সূফী মোস্তাফিজুর রহমান-এর সঙ্গে যৌথভাবে রচিত ‘উয়ারী-বটেশ্বর: শেকড়ের সন্ধানে’ গ্রন্থটি বর্ষসেরা বইয়ের স্বীকৃতি পায়।
অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৯ সালে তিনি বাংলা একাডেমির ফেলো নির্বাচিত হন এবং ২০২০ সালে লাভ করেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার।
শনিবার বাদ আসর বিকেল সাড়ে ৫টায় বটেশ্বর স্কুল মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
দেশের প্রত্নতত্ত্ব ও লোকসাহিত্য গবেষণায় তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au