ব্যাংক ও ডিপো বন্ধে দেশজুড়ে তেলশূন্য পাম্প, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
মেলবোর্ন, ২৩ মার্চ- ঈদের ছুটির পুরো সময়জুড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায়…
মেলবোর্ন, ২৩ মার্চ- ঈদের দিন সকালে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে হাজির হয়ে ঈদের জামাতে যোগ দিতে আসা হাজারো মুসলমানকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে, তখন কাছাকাছি সময়ে তার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী ও রাজ্যের বিরোধীদল নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা গেল বিখ্যাত কালীঘাট মন্দিরে পূজা দিয়ে ভোটের প্রচার করতে।
তড়িঘড়ি মন্দিরে ছোটেন মমতা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি সচেতন ব্যক্তি মাত্রই জানেন, এটা স্বাভাবিক কোনো চিত্র নয়। এর মধ্যে সুপ্ত অথচ জীবন্ত এক বার্তা আছে! তাই দিনভর ঈদ আর পূজা- পাশাপাশি ছবি দুটি রেখে রাজ্যের সোশ্যাল মিডিয়া যখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তখনই ঘুম ভাঙে তৃণমূলের। বিজেপির এভাবে এগিয়ে যাওয়া দেখে তড়িঘড়ি মমতা ছোটেন- তার বাড়ির পাশের একটি মন্দিরে। ভোটের মাঠে তার ‘প্রিয়’ মুসলমানদের এড়িয়ে সংখ্যাগুরু হিন্দুদেরকে বার্তা দেন, আমি আপনাদের সাথেও আছি!
ঈদের জামাতে কী বলেন মমতা
প্রতি বছরই দুই ঈদে নিয়ম করে কলকাতার রেড রোডের এই ঈদের জামাতে যোগ দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাজার হাজার মুসলমানের উপস্থিতিতে তাদেরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার আহ্বানও জানান তিনি।
তবে এবার বিধানসভা নির্বাচন থাকায় তা আর শুধু সম্প্রীতির বার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদিজি হলেন ভারতের সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী।’
তিনি হুমকির সুরে আরও বলেন, বাংলাকে যে টার্গেট করবে, সে জাহান্নামে যাবে। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবার প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘আমি ভারতীয়দের নিয়েই গর্বিত।’
‘মা কালীর আশীর্বাদ বিজেপি এবং আমার ওপর থাকুক
বহু বছর ধরে বিরোধীদলের অভিযোগ, ‘মমতা মুসলিমদের তোষণ করেন’। তিনিও তা স্বীকার করে বহুবার বলেছেন, ‘দুধেল গাইয়ের লাথি খাওয়াও ভালো’। রাজ্যে যখন এমন বিভাজন, তখন স্বাভাবিকভাবেই এদিন সকাল সকাল কালীঘাট মন্দিরে পূজা দিতে চলে যান শুভেন্দু অধিকারী।
পূজা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা অন্যায়, অনাচার চাই না। সকলের ভালো হোক, হিন্দুদের উপর আক্রমণ বন্ধ হোক, আরজি কর আর না। দেবদেবীর মূর্তি ভাংচুর আর না। সন্ন্যাসীদের উপর আক্রমণ আর না। বাংলার ভালো হোক’।
‘মা কালীর আশীর্বাদ বিজেপি ও আমার ওপর থাকুক’ মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘মা আমাকে শক্তি দিন, যাতে আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বাংলার উন্নতির জন্য কাজ করতে পারি।”
এবার বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে দাবি করে শুভেন্দু আরও বলেন, ‘সনাতন ধর্ম জিতবে। বিভিন্ন জায়গায় অত্যাচার হয়েছে। বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের ঢোকানো হচ্ছে। লাভ জিহাদ, ল্যান্ড জিহাদ, ভোট জিহাদের মতো ঘটনা ঘটছে।’
রাতে ‘মা বগলামুখী’ মন্দিরে মমতা
সকালে ঈদের জামাতে আসা মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানিয়ে হঠাৎ করেই রাতে কালীঘাটের মা বগলামুখী মন্দিরে ছোটেন মমতা। এ নিয়েও তৈরি হয় নানা রকম ভাষ্য। কেউ বলছেন, তিনি পুরোপুরি মুসলমানদের পক্ষে, সেই বার্তা ভোটাদের মাঝে গেলে নির্বাচনে জেতা কঠিন হয়ে যায়। তাই কৌশলে হিন্দুদের পক্ষে টানার জন্য তাড়িঘড়ি মন্দিরে হাজির হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
তবে এই মন্দিরটি এ বছরের ১৪ জানুয়ারি তিনিই উদ্বোধন করেছিলেন। ভোটেরমুখে সেখানেই পূজা দেন মমতা। কাঁসর-ঘণ্টা বাজিয়ে মায়ের আরাধনা করেন। পাশাপাশি মা-মাটি-মানুষের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনাও করেন।
রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বগলামুখী মন্দিরে পূজার ছবি রাতে যখন প্রকাশ্যে আসে, তারপর থেকে এ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। এই ঘটনাকে রাজনৈতিক মহল ‘যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সকালে শুভেন্দুর কালীঘাট মন্দিরে পূজা এবং সন্ধ্যায় মমতার বগলামুখী মন্দিরে উপস্থিতি সূক্ষ্ম রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু না বলা হলেও, হিন্দু ভোটারদের পক্ষে টানতেই মমতার এমন ‘কৌশল’ বলে বেশিরভাগ বিশ্লেষক দাবি করছেন।
তবে আরেকটি পক্ষ দাবি করছেন, মন্দিরে পূজা দেওয়া মমতার দিক থেকে মুসলিমদেরকে একটা বার্তা দেওয়া হলো- আমি শুধু তোমাদের ভোটের ওপর নির্ভর করছি না; হিন্দুদের ভোটও আমার চাই। আমি ঈদ-পূজা দুটোতেই আছি। কিন্তু এই ধর্মীয় আচার যে কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, তা বুঝতে কারো বাকি নেই।
লড়াকু শুভেন্দু, অস্থির মমতা
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই ফলাফল ছিল রাজ্যের রাজনীতিতে বিরাট এক বড় মোড়। তারপর থেকেই মূলত মানুষের কাছে শুভেন্দুকে লড়াকু নেতা হিসেবে পরিচিত করেছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী হলেও ওই পরাজয় ভুলতে পারেনি মমতা। উল্টো শুভেন্দু তার ঘরে এসে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে এবার।
ভোট বিশ্লেষণ থকে জানা যাচ্ছে, নিজের তালুক হিসেবে পরিচিত ভবানীপুরে জেতা মমতার জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। এ কারণেই তার অস্থিরতা যে বেড়ে গেছে, মাঝেমাঝে সেটা প্রকাশও করে ফেলছেন তিনি। বগলামুখী মন্দিরে পূজা দিতে যাওয়া সেই অস্থিরতারই বহিঃপ্রকাশ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au