আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড় বিপদে ভারতীয় নাগরিক
মেলবোর্ন, ২৩ মার্চ- সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি লক্ষ্য করে নতুন ধাপে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। আবুধাবির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সক্রিয় করা হলেও ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক…
মেলবোর্ন, ২৩ মার্চ- ঈদের ছুটির পুরো সময়জুড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে। কোথাও আবার সীমিত পরিমাণে রেশনিং করে তেল সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের টানা ছুটিতে ব্যাংক ও তেল ডিপো বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকরা নতুন করে জ্বালানি তুলতে পারেননি। ফলে বিদ্যমান মজুত দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে করে ছুটির সময় সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পই ছিল তেলশূন্য। রোববার ঢাকার শ্যামলী এলাকায় সাইফুল ইসলাম নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী সকাল থেকে একাধিক পাম্প ঘুরে শেষে একটি পাম্পে লাইনে দাঁড়ান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হয় তাকে।
মিরপুরের বাসিন্দা রাকিব হাসান জানান, ঈদের দিন জরুরি কাজে বের হয়ে অন্তত আট থেকে দশটি পাম্প ঘুরেছেন তিনি। কোথাও অকটেন না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন-এ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ২০০ টাকার তেল নিতে সক্ষম হন।
চট্টগ্রামেও একই চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ পাম্প বন্ধ থাকায় যে কয়েকটি খোলা ছিল, সেখানে ছিল দীর্ঘ যানবাহনের সারি। স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল করিম বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সীমিত পরিমাণ তেল নিতে হয়েছে তাকে।
রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলেও সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। অনেক পাম্প পুরোপুরি বন্ধ, আর খোলা পাম্পগুলোতে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল দেওয়া হয়নি। রংপুরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে খালি হাতে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংকটের মূল কারণ পে-অর্ডার জটিলতা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক জানান, ব্যাংক বন্ধ থাকায় পে-অর্ডার করা সম্ভব হয়নি। আর পে-অর্ডার ছাড়া ডিপো থেকে তেল তোলা যায় না। ফলে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ বাড়ানো যায়নি।
তিনি আরও বলেন, শুধু ডিপো খোলা থাকলেই হবে না, ব্যাংক না খুললে পাম্প মালিকরা তেল তুলতে পারবেন না। আগে চেকের মাধ্যমে তেল নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নানা জটিলতার কারণে সেই ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তাও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঈদের আগে কিছুটা স্বাভাবিক হলেও ছুটির মধ্যে এসে সংকট আবার তীব্র হয়ে ওঠে।
সরকার গত ৬ মার্চ জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিং চালু করলেও ১৫ মার্চ তা তুলে নেয়। তবে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় বাস্তবে ভোগান্তি কমেনি। বরং ঈদের টানা ছুটির কারণে সংকট আরও বাড়ে।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতা দেশের সাধারণ মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘ লাইন, সীমিত সরবরাহ এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে অনেকের ঈদের আনন্দও ম্লান হয়ে গেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au