বাংলাদেশ

জেলায় জেলায় বন্ধ হচ্ছে পেট্রল পাম্প, জ্বালানি সংকটে স্থবির পরিবহনব্যবস্থা

  • 5:11 pm - March 24, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৪৩ বার
জেলায় জেলায় বন্ধ হচ্ছে পেট্রল পাম্প, জ্বালানি সংকটে স্থবির পরিবহনব্যবস্থা। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২৪ মার্চ- ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ না হতেই দেশের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ঘাটতির কারণে একের পর এক পেট্রল পাম্প বন্ধ হয়ে পড়ছে। কোথাও পেট্রল নেই, কোথাও অকটেন নেই, আবার কোথাও ডিজেলের ঘাটতি। ফলে যানবাহন চালক, পরিবহন শ্রমিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক এলাকায় জরুরি সেবার যানবাহন পর্যন্ত জ্বালানি না পেয়ে বিপাকে পড়ছে।

পঞ্চগড়-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৯৩ কিলোমিটারের ৪৬টি ফিলিং স্টেশনের ৪৩টি বন্ধ রাখা হয়েছে। কুড়িগ্রামের ২০টি স্টেশনের প্রতিটি জ্বালানি ‘তেলশূন্য’। সেগুলো বন্ধ করে রাখা হয় রবিবার। সবমিলিয়ে জেলাজুড়ে হাজার হাজার গ্রাহক তেল কিনতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিরে যাচ্ছেন। তেল সংকটে গ্রাহকদের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডিপো থেকে চাহিদার বিপরীতে অর্ধেক পেট্রল যাওয়া যাচ্ছে। অকটেনের সরবরাহ বন্ধ। তবে চাহিদার বিপরীতে ডিজেল পাচ্ছেন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ। জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে না পেরে গ্রাহকদের গালিগালাজ শুনছেন। এজন্য অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ রেখেছেন।

রাজশাহীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ

রাজশাহীতে ৪৪টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি বন্ধ আছে। বাকিগুলোতেও তেল নেই বললেই চলে। ফলে জ্বালানি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন যানবাহন চালকরা।

জেলার গণমাধ্যমকর্মী মাহী ইলাহি বলেন, ‌‘সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জেলা ও মহানগরীর ২০টি পাম্প ঘুরেছি। কোথাও তেল পাইনি। ঈদের দিন থেকেই বন্ধ আছে জেলার অধিকাংশ পাম্প। যে পাম্পে যাচ্ছি বলছে তেল নেই। এর মধ্যে কিছু পাম্প তেল পেলেও তা বিক্রি করছে না। যারা ডিপো থেকে নিয়ে আসছে তারা বিক্রি না করে মজুত করে রাখছে।’

রাজশাহী জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান শিমুল বলেন, ‘পাম্পগুলোতে যা মজুত ছিল তা ঈদের আগেই শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত কোনও পাম্পে আর পেট্রল ও অকটেন নেই। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা এসে পাম্পগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। তেল নেই অধিকাংশ পাম্পে নোটিশ দিয়ে দড়ি টানিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাঘাবাড়ি ডিপোতে আমাদের লরি গেছে। লরিতে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার তেলের ধারণক্ষমতা। কিন্তু পাওয়া গেছে তিন হাজার লিটার। আমরা পরিবেশকদের বলেছি পর্যাপ্ত তেল দিতে। যদি পাওয়া যায় মঙ্গলবার বিক্রি হবে। ডিপো থেকে শুধু ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। পেট্রল-অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না।’ পাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তেল বিক্রি শুরু হলে গ্রাহকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা হতে পারে। পুলিশ দিয়ে কাজ হয় না। এজন্য আমরা জেলা প্রশাসককে বলেছি, যেন পাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। তা না হলে তেল বিক্রি করা সম্ভব হবে না।’

ময়মনসিংহের বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বন্ধ

ময়মনসিংহের বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন ঈদের দিন সকাল থেকেই বন্ধ রয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। তবে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরবাইক চালকরা। এর মধ্যে রবিবার দু’একটি ফিলিং স্টেশন মাঝেমধ্যে খুলে যানবাহন চালকদের তেল দিতে দেখা গেছে।

নগরীর পুলিশ লাইনস সংলগ্ন সাইফুল ফিলিং স্টেশনকে ঈদের দিন সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধ পাওয়া গেছে। সাইফুল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কামরুল হাসান  বলেন, ‘ফিলিং স্টেশনে মজুতকৃত জ্বালানি তেল ঈদের আগের দিন রাতেই শেষ হয়ে গেছে। তেল না থাকায় ঈদের দিন সকাল থেকে স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। জ্বালানি তেল পাওয়া গেলেই আবার খোলা হবে।’

নগরীর চুরখাই রওশন ফিলিং স্টেশন ঈদের আগের দিন থেকেই বন্ধ আছে। এখানকার কর্মচারী শফিকুল ইসলাম জানান, ‘জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় ঈদের আগের দিন থেকেই আমাদের স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্মচারীরা সবাই ঈদ করতে বাড়ি চলে গেছেন। তেল পাওয়া গেলে স্টেশন খোলা হবে।’

তবে নগরীর শিকারিকান্দা সওদাগর ফিলিং স্টেশন সোমবার দুপুরে গিয়ে খোলা পাওয়া যায়। দুই ঘণ্টার জন্য খোলা রেখে যানবাহন চালকদের তেল দিতে দেখা গেছে তাদের। এখানকার কর্মচারী রমজান জানান, জ্বালানি তেলের মজুত একেবারেই শেষের দিকে। কিছু ছিল, এজন্য ফিলিং স্টেশন খুলে চালকদের তেল দেওয়া হয়েছে। মজুত শেষ হওয়ার পরপরই বিকালের দিকে পেট্রল পাম্প বন্ধ করা হয়েছে।

পঞ্চগড়-দিনাজপুর সড়কের ৪৩টি ফিলিং স্টেশন বন্ধ

তেলের সরবরাহ না থাকায় ঈদের পরদিন থেকে ভোগান্তিতে আছেন পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরের চালকরা। ঈদের আগের রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের হানিফ ফিলিং স্টেশনে ভবনের কাচ ভাঙচুর করেছেন তারা।

কয়েকজন গ্রাহক বলছেন, তেল থাকতেও দিচ্ছে না, দাম বাড়ার অপেক্ষায় মজুত করেছেন পাম্পমালিকেরা। সিন্ডিকেট করে খুচরা পাইকারদের তেল দেওয়া হচ্ছে। ছোট ছোট বাজারে তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।

পঞ্চগড়-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৯৩ কিলোমিটারের ৪৬টি ফিলিং স্টেশন চোখে পড়ে। এর মধ্যে পঞ্চগড় থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের সীমানায় ২৫টি পাম্প বন্ধ; সেখানে অকটেন ও পেট্রল নেই।

বীরগঞ্জ থেকে দিনাজপুর পর্যন্ত ২১টি পাম্পের মধ্যে তিনটিতে শুধু পেট্রল বিক্রি হচ্ছে। সেখানে গ্রাহকদের লম্বা সারি। কেউ মোটরসাইকেল নিয়ে পাম্পে হাজির হয়েছেন, কেউ বোতল নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। গ্রাহকদের ভিড়ে হিমশিম খাচ্ছেন পাম্পের কর্মীরা। সিরিয়াল ভাঙতে দেখলেই শুরু হচ্ছে হইহুল্লোড়, চিৎকার, চেঁচামেচি।

কয়েকটি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক ও কর্মচারী জানান, প্রতিটি লরিতে (তেলবাহী ট্রাক) ডিজেল, পেট্রল, অকটেনের জন্য তিনটি চেম্বার থাকে। ডিপো থেকে শুধু ডিজেল পেয়েছেন। বাকি দুটি চেম্বার খালি। এতে পরিবহন খরচও বাড়ছে। পাম্পগুলোয় দৈনিক পেট্রলের চাহিদা রয়েছে ৭০০ থেকে দেড় হাজার লিটার, অকটেন ৩৫০ থেকে ৭০০ লিটার। আর ডিজেলের চাহিদা দুই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার লিটার। তারা ঈদের আগে জ্বালানি পেয়েছেন; তাও অর্ধেক।

ঠাকুরগাঁওয়ের চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী বলেন, ‘গত শুক্রবার তেল পেয়েছি। তিন দিন পর আজ সাড়ে তিন হাজার লিটার পেট্রল পেলাম। সন্ধ্যায় গাড়ি এসে পৌঁছাবে। রেশনিং পদ্ধতিতে (প্রতিজন ২০০ টাকার) দেওয়া ছাড়া উপায় নাই। এখানে আমাদের হাতে কিছু নাই। ডিপো থেকে তেল না পেলে আমরা কী করব?’

পঞ্চগড় ধাক্কামাড়া এলাকায় একটি পাম্পের কর্মচারী ফারুক আলম বলেন, ‘একটা অ্যাম্বুলেন্স যদি আসে, একফোঁটা জ্বালানি দিতে পারবো না। আর পেট্রল, যার দুই লিটার হলেও চলবে, সে নিচ্ছে পাঁচ লিটার। আমরা দুই লিটারের বেশি দিই না। অনেকে এ পাশ থেকে তেল নিয়ে, আবার পেছন থেকে লাইনে দাঁড়াচ্ছে। যদি তেলের সংকট আরও বাড়ে, এই ভেবে মানুষ রিজার্ভও করছে।’

চট্টগ্রামের পাম্পগুলোতেও নেই তেল

চট্টগ্রামের বেশ কিছু পেট্রল পাম্পে গত কয়েকদিন ধরে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মিলছে না। কিছু পাম্প বন্ধ রয়েছে। কোনও কোনও পাম্পে অকটেন থাকলেও নেই ডিজেল। আবার কোনও পাম্পে ডিজেল থাকলেও নেই অকটেন। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চালকরা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগে পেট্রল পাম্প আছে ৩৮৩টি, এজেন্ট ডিস্টিবিউটর আছেন ৭৯৯ জন এবং প্যাকড পয়েন্ট ডিলার আছেন ২৫৫ জন।

পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের সদস্যসচিব মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন  বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৪৬টির মতো পেট্রল পাম্প আছে। কোনও কোনও পাম্পে ডিজেল থাকলে অকটেন নেই, আবার অকটেন থাকলেও নেই ডিজেল। তবে মঙ্গলবার বিকালের মধ্যে এই সংকট কেটে যাবে বলে মনে করছি। কারণ ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় তেল কেনায় পে-অর্ডার করা যায়নি। এজন্য পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হয়নি। মঙ্গলবার ব্যাংক খোলা হলে পে-অর্ডার জমা দেওয়া হবে। বিকালের মধ্যে পাম্পগুলোতে তেল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’

কুড়িগ্রামের ২০ ফিলিং স্টেশন বন্ধ

কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার ২০টি ফিলিং স্টেশনের প্রতিটি জ্বালানি ‘তেলশূন্য’ হওয়ায় রবিবার থেকে সেগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছে। হাজার হাজার গ্রাহক তেল কিনতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিরে যাচ্ছেন। তেল সংকটে গ্রাহকদের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

‘তেল নেই’ শুনে মজুত যাচাই কর‌তে স্টেশনগু‌লো‌তে অ‌ভিযান শুরু ক‌রে‌ছে কু‌ড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন। সোমবার সকাল থে‌কে জেলা প্রশাস‌ক অন্নপূর্ণা দেবনা‌থের তত্ত্বাবধায়‌নে এ অ‌ভিযান শুরু হয়। তবে স্টেশনগু‌লো‌তে পর্যাপ্ত তেলের সন্ধান মেলেনি।

তেল না পাওয়ায় শহরের খলিলগঞ্জে অবস্থিত এসএস ফিলিং স্টেশনে কয়েকজন গ্রাহক উত্তেজিত হয়ে হামলার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় ওই পেট্রল পাম্পে পুলিশকে পাহারা দেখা গেছে।

জেলার ফুয়েল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, জেলায় ২০টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। কিন্তু কোনটিতেই পেট্রল, ডিজেল কিংবা অকটেন- কোনও প্রকার জ্বালানি তেল নেই। ঈদের আগেই তেলশূন্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে রশি টেনে সেগুলো বন্ধ থাকার নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকরা জ্বালানি তেল কিনতে গিয়ে ফেরত যাচ্ছেন। দিনভর একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

ফুয়েল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জামান আহমেদ  বলেন, ‘তেল না থাকায় মালিকরা জেলার পেট্রল পাম্পগুলো বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু গ্রাহকরা তেল না পেয়ে উত্তেজিত হচ্ছেন। তেল না থাকলে আমরা দেবো কীভাবে। কিন্তু কিছু গ্রাহক পাম্পের কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। কোথাও কোথাও হামলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

বগুড়ায় ৩৫টি পাম্প বন্ধ

বগুড়ায় তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার ৭২টির মধ্যে অর্ধেকের বেশি ফিলিং স্টেশনে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন নেই। এতে যানবাহন চলাচলে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সোমবার বিকালে বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মিজানুর রহমান রতন জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আজকালের মধ্যে কিছু জ্বালানি আসছে। তা দিয়ে সংকট পরিস্থিতির কিছুটা লাঘব হবে।

বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সূত্র জানায়, বগুড়ার ১২ উপজেলায় ৭২টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। তবে প্রতিদিন জেলায় কী পরিমাণ তেল প্রয়োজন সে তথ্য অ্যাসোসিয়েশনের কাছে নেই। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি থেকে কেউ বেশি আবার কেউ কম পাচ্ছেন। অর্থাৎ ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাহিদার অর্ধেক জ্বালানিও মিলছে না। ফলে গত কয়েকদিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ঈদের আগের রাতে স্টেশনগুলোতে রাতভর ব্যাপক চাপ ছিল। ফলে ঈদের দিন সকাল থেকে জ্বালানির মজুত কমতে থাকে। ঈদের পরদিন রবিবারেও কিছু কিছু পাম্পে জ্বালানি তেল বিক্রি হলেও সোমবার সকাল থেকে পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় একে একে পাম্পগুলো বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হন মালিকরা। বিকাল পর্যন্ত ৭২ পাম্পের ৩৫টি তেল শূন্য হয়ে পড়লে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রংপুরের ২০ স্টেশন বন্ধ

রংপুরের ৪০ ফিলিং স্টেশনের বেশিরভাগে জ্বালানি নেই। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার অন্তত ২০টি স্টেশন বন্ধের খবর পাওয়া গেছে। ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রবিবার থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ না থাকায় সোমবার দুপুরের পর থেকে মজুতশূন্য হয়ে পড়ায় পাম্পগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। এদিন তাদের তেলবাহী লরিগুলো পার্বতীপুরে গিয়ে কোনও জ্বালানি পায়নি।

যানবাহন চালকরা বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে জ্বালানি না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, জেলা প্রশাসনের কোনও নজরদারি না থাকায় এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা মহসিন জানান, ডিপু থেকে জ্বালানি না পাওয়ায় তারা তেল বিক্রি করতে পারছেন না। জেলার ২০টির বেশি স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।

খুলনার ৩৬টি পাম্প বন্ধ

খুলনা জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সহসভাপতি মহিবুল হাসান  বলেন, ‌‘খুলনা জেলায় ৩৬টি পাম্প রয়েছে। চাহিদা মতো তেল না পাওয়ায় সবগুলো পাম্পই সংকটে রয়েছে। ডিপো থেকে যা তেল দেওয়া হয়, চাপ বেশি থাকার কারণে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়। ফলে সোমবার বিকাল ৫টার পর থেকে সব পাম্পই বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন করে তেল পাওয়ার পর আবার পাম্পগুলো চালু হবে।’

খুলনা বিভাগীয় ট্যাংক লরি মালিক সমিতির সভাপতি সুলতান মাহমুদ পিন্টু বলেন, ‘ব্যাংক ড্রাফটের জন্য উত্তরা ব্যাংক খালিশপুর শাখা ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য ২৩ মার্চ বন্ধের দিনও খোলা রেখেছিল। কিন্তু ডিপো থেকে সময়মতো তেল দিতে পারেনি। চাহিদা অনুযায়ী তেল ডিপো দিচ্ছেও না। ফলে যেটুকু তেল পাওয়া যায় তা পাম্পে নিতেই শেষ হয়ে যায়। ফলে পাম্পগুলো চালিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে বরিশালের সব পাম্প

বরিশাল নগরী থেকে শুরু করে ১০ উপজেলার মহাসড়কের পাশে স্থাপিত পেট্রল পাম্পগুলো ঠিকমতো জ্বালানি তেল দিতে পারছে না। বিশেষ করে ডিজেল না হয় পেট্রল কিংবা অকটেনের সংকট লেগেই আছে। এজন্য পাম্পের মেশিনগুলোর ওপরে লিখে রাখা হচ্ছে ডিজেল-অকটেন অথবা পেট্রল নেই লেখা কাগজ।

একাধিক পাম্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটে জেলার অধিকাংশ পেট্রল পাম্প বন্ধ রাখা হচ্ছে। কারণ তেলের সংকটে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টাও পাম্প চালু রাখতে পারছেন না তারা। খোলা রাখলে ক্রেতারা তেল নিতে এসে নেই বললে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তে হচ্ছে। এ সময় তাদের হামলার শিকার হতে হচ্ছে পাম্পের কর্মচারীদের। এ কারণে পাম্পগুলো বন্ধ রাখা হচ্ছে।

বরিশাল পেট্রল পাম্প ও ট্যাংক লরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শওকত আকবর  জানিয়েছেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিনই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টার বেশি পাম্পে তেল থাকে না। যে পরিমাণ তেল সরকার থেকে নির্ধারিত করা রয়েছে তা দিয়ে ১০ ঘণ্টাও চলার মতো না। এজন্য জেলার অধিকাংশ পাম্প দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তেল পাওয়া গেলে তখন খোলা হয়।’

জেলায় প্রায় ১০০টি পেট্রল পাম্প রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি পাম্পে যে পরিমাণ তেল প্রয়োজন তা দিতে পারছে না ডিপোগুলো। এ কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।’

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

এই শাখার আরও খবর

ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ

মেলবোর্ন, ২৫ মার্চ- ইরানে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সাম্প্রতিক সময়ে…

পৌর জামায়াতের আমির সোহেল রানা গ্রেপ্তারের পর কারাগারে

মেলবোর্ন, ২৫ মার্চ- লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে পাটগ্রাম উপজেলার ব্র্যাক অফিসের সামনের…

 ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ঘোষণা কাতার এনার্জি, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তীব্র

মেলবোর্ন, ২৫ মার্চ- ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান-এর চলমান যুদ্ধের জেরে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তিতে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ঘোষণা করেছে কাতার এনার্জি। এর ফলে ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া…

জ্বালানি খাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ফিলিপিন্স

মেলবোর্ন, ২৫ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ফিলিপিন্স। বিশ্বে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রথম…

শিখন ঘাটতি মেটাতে টানা ১০ শনিবার খোলা থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়

মেলবোর্ন, ২৫ মার্চ- রমজান ও ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটির পর দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিখন ঘাটতি পূরণে টানা ১০ শনিবার পাঠদান চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার…

বিশ্বকাপের টিকিটের চড়া দাম, ফিফার বিরুদ্ধে মামলা

মেলবোর্ন, ২৫ মার্চ- ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের চড়া দাম নিয়ে তীব্র অসন্তোষের মুখে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এ নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au