দ্রুত ইরান যুদ্ধ শেষ করতে কর্মকর্তাদের সময়সীমা বেধে দিলেন ট্রাম্প
মেলবোর্ন, ২৭ মার্চ- ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধের ইতি টানার লক্ষ্য নির্ধারণ করে তিনি…
মেলবোর্ন, ২৬ মার্চ- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রভাবশালী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের দুইদিনের মধ্যে আরেক তিন তারকা জেনারেল প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে ২০০৭-০৮ সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরেরদিন তাকে মঙ্গলবার মানবপাচার মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
নানা প্রশ্ন
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাস যেতে না যেতেই সাবেক দুই প্রভাবশালী শীর্ষ সেনাকর্মকর্তাকে এভাবে আটকের ঘটনা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যক্তি হিসেবে তারেক রহমান এবং দল হিসেবে বিএনপি এসব সেনাকর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিচ্ছে। বিশেষ করে ২০০৭ সালে তারেকের ওপর হওয়া নির্যাতন এই প্রতিশোধের পথে হাঁটার মূল কারণ।
আবার দল হিসেবে বিএনপি মনে করে, সেই বছর বিএনপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে যারা সরাসরি জড়িত ছিল- সেইসব সেনাকর্তকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এরই মধ্যে দলটির কোনো কোনো নেতা আড়ালে মন্তব্য করেছেন, জড়িত সব সেনাকর্মকর্তাকেই বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
‘প্রতিশোধ’ নিচ্ছে বিএনপি
এই দুই কারণে বাইরে ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের বাড়ি থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদের ঘটনাও তারেক রহমানকে প্রতিশোধ পরায়ণ করে তুলেছে। যদিও সেই উচ্ছেদ ছিল আদালতের রায় মেনে। কিন্তু তারপরও প্রেসিডেন্ট জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত উল্লেখ করে প্রকাশ্যেই এর প্রতিশোধ নিতে চেয়েছে দলটি।
যেভাবে আটক শেখ মামুন খালেদ
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মতো একই প্রক্রিয়ায় গভীর রাতে রাজধানীতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে আটক করে। বুধবার দিবাগত রাতে মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের কথা সাংবাদিকদের জানাতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই তাকে আটক করা হয়েছে।
কে এই মামুন খালেদ
শেখ মামুন খালেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স স্কুল, আর্মি সদর দফতর, আর্ফেন্ট্রি বিভাগের কর্নেল স্টাফ, সামরিক সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের কমান্ডার, এরিয়া কমান্ডার লজিস্টিক এরিয়ার প্রশিক্ষকও ছিলেন। বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার কমান্ডার ছিলেন।
এছাড়াও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন শেখ মামুন খালেদ। তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি পিএইচডি এর জন্য চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল অর্জন করেন।
সেনাবাহিনীর সিগন্যালস কর্পস- এর এই কর্তকর্তা ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। তবে তারেক রহমানকে ২০০৭ সালে যখন আটক করা হয়, তখন তিনি ছিলেন ডিজিএফআইয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নজরদারি শাখার পরিচালক।
যত অভিযোগ
শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আগে থেকেই অনুসন্ধান চলছিল। এরমধ্যে রয়েছে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, এক-এগারোর সময়ে তার ভূমিকা এবং জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি।
গত বছরের মে মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পর আদালত শেখ মামুন খালেদ ও তার স্ত্রী নিগার সুলতানার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ওই সময় তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ- সংক্রান্ত অভিযোগে অনুসন্ধানের কথাও জানানো হয়েছিল।
কী বলছে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেছেন, আটকের পর শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্পষ্ট করে না বললেও, গোয়েন্দাদের একটি সূত্র বলছে, যে কোনো একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকেও রিমান্ডে নেওয়া হবে।
আরও সাবেক সেনাকর্মকর্তা গ্রেপ্তার হবেন
গ্রেপ্তার গোয়েন্দা পুলিশের ওই সূত্রটি ওটিএন বাংলাকে বলেছে, এক-এগারোর সঙ্গে সরাসরি জড়িত সেনাকর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যারা দেশে আছেন, তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে। এছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সেসব সেনাকর্মকর্তা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করেছেন, তাদেরকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au