মেলবোর্ন, ২৭ মার্চ- বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবন ও প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় মানুষের জীবন অনলাইন নির্ভর হয়ে উঠেছে। এক ক্লিকেই জামাকাপড়, কাঁচাবাজারসহ সব পণ্য ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। তবে এই সুবিধার সঙ্গে বেড়েছে সাইবার ঝুঁকি। অনলাইন জগতে সাইবার অপরাধীরা কেবল পাসওয়ার্ড নয়, বরং ব্যবহারকারীর ডিজিটাল পরিচয় এবং সঞ্চয় হাতিয়ে নিতে সক্রিয়।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক জেনিফার আলম বলেন, অনলাইনে কেনাকাটায় ‘এফওএমও’ বা সুযোগ হারানোর ভয়ের প্রলোভন মানুষকে ফাঁদে ফেলে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল কমার্সে পণ্য দেখার আগে অগ্রিম পেমেন্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। ব্যক্তিগত তথ্য যেমন ঠিকানা, ফোন নম্বর, ইমেইল কখনো অপরিচিত ওয়েবসাইটে দেওয়া উচিত নয়।
হ্যাকাররা ফিশিং ও ফেক অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নেয়। প্লে-স্টোরে ভুয়া অ্যাপ ইনস্টল করলে ম্যালওয়্যার প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া কার্ড সেভ করলে, যদি প্রতিষ্ঠানের সার্ভার হ্যাক হয়, তাহলে ব্যবহারকারীর ব্যাংক তথ্য সরাসরি হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে।
ডেলিভারি স্ক্যাম ও ওটিপি হাইজ্যাকিং নতুন ধরনের প্রতারণা। পার্সেল কনফার্ম করার নাম করে ওটিপি ফোনে দিলে হ্যাকাররা ব্যাংক বা বিকাশ অ্যাকাউন্ট দখল করতে পারে। শপিং অ্যাপের অপ্রয়োজনীয় পারমিশনও তথ্য চুরির ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রযুক্তিগত ঝুঁকি এড়াতে ব্রাউজারের ইনকগনিটো মোড বা সিকিউর ব্রাউজার ব্যবহার করা এবং ভার্চুয়াল ক্রেডিট কার্ড বা ওয়ান-টাইম লিমিট কার্ডে পেমেন্ট করা নিরাপদ। আলাদা ইমেইল ব্যবহার করা, ইউআরএল চেক, ২-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখা, ক্যাশ অন ডেলিভারি বেছে নেওয়া, পণ্যের রিভিউ যাচাই করা ও পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার না করা ‘গোল্ডেন রুলস’।
সাইবার নিরাপত্তা গবেষক রাইয়ান আ. মালিক বলেন, প্রযুক্তি জীবন সহজ করেছে, তবে নিরাপদ রাখা ব্যবহারকারীর দায়িত্ব। কোনো অনলাইন অপরাধের শিকার হলে নিকটস্থ থানায় বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করা জরুরি।