মেলবোর্ন, ১ এপ্রিল- জিতলেও ইতিহাস, হারলেও তাই! এমনই যখন সমীকরণ, তখন মাঠে নামার পর সবকিছুই চলছিল ইতালির হিসেব মতোই। খেলার ১৫ মিনিটের মধ্যেই সেই হিসাব-নিকাশ আরও সহজ করে দেন ময়েজ কিনের গোল। কিন্তু ৪১ মিনিটে সব ওলটপালট করে দেয় একটি লাল কার্ড। ইতালির খেলোয়াড়-সমর্থকদের বুক রক্তাক্ত করে ডিফেন্ডার আলেস্সান্দ্রো বাস্তোনিকে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়।
বাস্তোনির এই চলে যাওয়া শুধু তার একা চলে যাওয়া নয়। যেন পুরো ইতালিকেও মাঠের বাইরে নিয়ে যান তিনি। এই লাল কার্ডই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ট্রাম্প কার্ড। খেলা শেষ হওয়ার মাত্র ১১ মিনিট আগে হারিস তাবাকোভিচ গোল করে সমতায় ফেরান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে। অতিরিক্ত সময় গড়িয়ে দশ জনের দল ইতালি টাইব্রেকারে হেরে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে যেতে ব্যর্থ হয়।
তবে ম্যাচ জুড়ে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের আমার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন গোলকিপার জানলুইজি দোন্নারুম্মা। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেন তিনি। তবে টাইব্রেকারে আর দলকে রক্ষা করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ইউরোপ অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে অফ ফাইনালে ৪-১ গোলে হেরেছে আজ্জুরিরা।
ইতালি সবশেষ বিশ্বকাপ জেতে ২০০৬ সালে। পরের দুই আসরে তারা বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকে। ২০১৮ থেকে টানা তিন আসরে দর্শক হয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। এই তিনবারই প্লে অফ পর্বে হারতে হয় তাদের।
চমকে দেওয়া এই জয়ে ১২ বছর পর বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। এর আগে একবারই বিশ্বকাপে খেলেছিল তারা। ২০১৪ সালে চূড়ান্ত পর্বে খেলেছিল দেশটি।
ম্যাচে প্রায় ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য ৩০টি শট নিয়ে ১১টি লক্ষ্যে রাখতে পারে বসনিয়া। ১০টি সেভ করেন দোন্নারুম্মা। ইতালির ৯ শটের কেবল তিনটি লক্ষ্যে ছিল।
প্রতিপক্ষের ভুলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে পঞ্চদশ মিনিটে এগিয়ে যায় ইতালি। সতীর্থের ব্যাক-পাস পেয়ে বসনিয়ার গোলরক্ষক বল তুলে দেন ইতালির নিকোলো বারেল্লার পায়ে। এই মিডফিল্ডারের পাসে বক্সের বাইরে থেকে শটে বল জালে পাঠান ফরোয়ার্ড কিন।
শুরু থেকেই বসনিয়া সুযোগ তৈরি করতে থাকে একের পর এক। কিন্তু ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা আর দোন্নারুম্মার দৃঢ়তায় বারবার হতাশ হয় তাদের।
৪১তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ আসে তাদের সামনে। বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া মেমিককে বক্সের বাইরে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ইতালির ডিফেন্ডার আলেস্সান্দ্রো বাস্তোনি।
গোলের জন্য প্রথমার্ধে যেখানে ইতালির দুই শটের দুটি ছিল লক্ষ্যে, সেখানে বসনিয়ার ১৩ শটের চারটি লক্ষ্যে ছিল। ৬০তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পান কিন। মাঝমাঠ থেকে বল ধরে এগিয়ে যান তিনি। গোলরক্ষকও এগিয়ে আসেন। কিন্তু ওয়ান-অন-ওয়ানে উড়িয়ে মারেন ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ৭৯তম মিনিটে সমতায় ফেরে । ডান দিক থেকে সতীর্থের ক্রসে দূরের পোস্টে এদিন জেকোর প্রচেষ্টা দোন্নারুম্মা ফিরিয়ে দিলেও, কাছ থেকে জালে পাঠান হারিস তাবাকোভিচ।
অতিরিক্ত সময়ের খেলায় সুযোগ পায় দুই দলই, কিন্তু স্কোরলাইনে আর পরিবর্তন আসেনি। এরপর পেনাল্টি শুট আউটে বসনিয়ার বাজিমাত আর ইতালির একরাশ হতাশা।