সারাদেশে ছড়াচ্ছে হাম, প্রাণ গেল শতাধিক শিশুর
মেলবোর্ন, ৪ এপ্রিল- দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। সর্বশেষ হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে শুক্রবার সকাল…
মেলবোর্ন, ৪ এপ্রিল- সাফ অনূর্ধ্ব-২০ আসরে রোমাঞ্চ আর উত্তেজনায় ভরপুর ফাইনালে ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে নির্ধারিত সময় গোলশূন্য ড্র থাকার পর টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হয় চ্যাম্পিয়নের ভাগ্য। শেষ পর্যন্ত পঞ্চম শটে আমেরিকান প্রবাসী ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভানের নিশ্চিত করা গোলে উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো বাংলাদেশ শিবির।
টাইব্রেকারের শুরু থেকেই নাটকীয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। টসে জিতে প্রথমে শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। তবে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন প্রথম শটেই দারুণ সেভ করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর বাংলাদেশের হয়ে মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম নিজেদের শট সফলভাবে জালে জড়িয়ে দলকে লিডে রাখেন।
বাংলাদেশের চতুর্থ শটে নামেন স্যামুয়েল। ঠিক তখনই ভারতের গোলরক্ষক চোটের অজুহাতে সময় নেন, চিকিৎসা শেষে আবার পোস্টে দাঁড়ান। চাপের মুহূর্তে নেওয়া স্যামুয়েলের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফলে চার শট শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-৩।
শেষ শটকে ঘিরে তৈরি হয় তীব্র উত্তেজনা। ভারতের হয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা খেলোয়াড় শট নিতে এসে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন, তার শট অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। তখন সমীকরণ দাঁড়ায়, বাংলাদেশের শেষ শটটি গোল হলেই শিরোপা নিশ্চিত। এমন চাপের মুহূর্তে রোনান সুলিভান নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন। সঙ্গে সঙ্গে মালেতে উপস্থিত বাংলাদেশি সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম।
ম্যাচের নির্ধারিত সময়েও দুই দলের লড়াই ছিল সমানতালে। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ তুলনামূলক বেশি প্রাধান্য বিস্তার করলেও দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের আক্রমণ তীব্র হয়ে ওঠে। বল দখলে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক মাহিনকে খুব বেশি বিপদে ফেলতে পারেনি ভারতীয়রা। অন্যদিকে বাংলাদেশও পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে মাঠে নামানো হয় রোনান সুলিভানের ভাই ডেকলানকে। তিনি নিজের প্রান্ত দিয়ে কয়েকটি আক্রমণ সাজান এবং শেষদিকে দূর থেকে রোনানের উদ্দেশ্যে দারুণ একটি পাস বাড়ান। তবে সেই সুযোগ থেকেও গোল আদায় করতে পারেনি বাংলাদেশ, কারণ ভারতের গোলরক্ষক এগিয়ে এসে তা রুখে দেন।
পুরো ম্যাচজুড়েই দুই দল একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি কেউই। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন কয়েকবার পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সামাল দেন। যদিও দু-একবার বল নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলেও তা বড় কোনো বিপদে পরিণত হয়নি।
মালেতে অনুষ্ঠিত এই ফাইনাল ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ছুটির দিনে তারা গ্যালারি ভরিয়ে দলকে সমর্থন দেন। একই গ্রুপে থাকার কারণে বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের শক্তি-দুর্বলতা সম্পর্কে ভালোভাবেই জানত। ফলে ম্যাচটি ছিল কৌশলগত দিক থেকেও বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
বিশেষ করে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভানকে ভারতীয় রক্ষণভাগ সারাক্ষণ কড়া নজরদারিতে রাখলেও তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শট নেন এবং শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয়সূচক গোল করে নায়ক বনে যান।
এই জয়ের মাধ্যমে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ আসরে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল বাংলাদেশ। তরুণ এই দলের আত্মবিশ্বাস ও লড়াকু মানসিকতা ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশার বার্তা দিচ্ছে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au