লাক্স সুপারস্টার বিজয়ীরা কে কী পেলেন?
মেলবোর্ন, ৪ এপ্রিল- দীর্ঘ সাত বছরের বিরতির পর জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে আবারও ফিরে এসেছে জনপ্রিয় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা লাক্স সুপারস্টার। এবারের আসরে বিজয়ের মুকুট উঠেছে…
মেলবোর্ন, ৪ এপ্রিল- আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। এই উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিএনপির আগের অবস্থানের সঙ্গে বর্তমান সিদ্ধান্তের সাংঘর্ষিকতা নিয়ে সমালোচনাও বাড়ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিএনপি স্পষ্টভাবে বলেছিল, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে তারা নয় এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। কিন্তু সরকার গঠনের পর দলটি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে এখন ওই অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে যাচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক সুবিধাবাদিতা থেকে কি এই অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে এই সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশটি ছিল সবচেয়ে আলোচিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিন গত ১৩ মার্চ এটি উত্থাপন করা হয়। পরে গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হলে ৩০ দিনের মধ্যে তা বাতিল হয়ে যায়। সে হিসেবে আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে।
গত বৃহস্পতিবার বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত রেখে আইনে পরিণত করার সুপারিশ করে। ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল আকারে উত্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশটি অন্যতম। আরও ১৬টি অধ্যাদেশ আপাতত উত্থাপন না করার এবং চারটি বাতিল করার সুপারিশ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ও ২০ ধারা সংশোধন করা হয়। এর ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ এবং দলটির সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে একই আইনের আওতায় ছাত্রলীগকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল রাজনৈতিক আন্দোলনের চাপ। ২০২৫ সালের ৯ মে রাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যোগ দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর পরদিন জরুরি বৈঠকে বসে অন্তর্বর্তী সরকার এবং অধ্যাদেশ জারি করে।
তবে অধ্যাদেশে আওয়ামী লীগকে সরাসরি নিষিদ্ধ না করে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এর ফলে দলটি কোনো ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। মিছিল, সভা-সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন, এমনকি গণমাধ্যমে বিবৃতি দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দলীয় কার্যালয় বন্ধ রাখা এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ করার মতো কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
এখন এই অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেওয়া হলে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, নতুন আইনে শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন কোনো কার্যক্রম চালালে চার থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কী শাস্তি হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না। এই ঘাটতি পূরণ করতে চায় সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এই অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার সুপারিশ করেছে। তাদের মতে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে শাস্তির বিধান যুক্ত করা প্রয়োজন। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, বিদ্যমান আইনের ১৬ ধারার শাস্তির বিধানই এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিএনপির এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগের জন্য এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা নতুন কিছু নয়। অতীতেও দলটি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে এবং সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “যা করার জনগণই করবে।” একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে আইনি লড়াইয়ের পথেও হাঁটবে দলটি।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি বড় রাজনৈতিক দলকে এভাবে কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক নয়। বিশেষ করে বিএনপি যখন আগে এ ধরনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে, তখন ক্ষমতায় এসে একই পথে হাঁটা তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা আরও মনে করছেন, এই আইনের মাধ্যমে যদি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার প্রবণতা তৈরি হয়, তাহলে তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ এখন দেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। সংসদে এটি পাস হলে এর প্রভাব শুধু একটি দলের ওপরই নয়, সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের ওপরও পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au