দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে , ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন,৬ এপ্রিল- দেশে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে এসেছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৭১ শতাংশে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯.১৩ শতাংশ। রবিবার (৫ এপ্রিল) প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম হ্রাস। মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.২৪ শতাংশে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯.৩০ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়ে ৯.০৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের মাসে ছিল ৯.০১ শতাংশ।
গ্রাম ও শহর-উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতির কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। গ্রামাঞ্চলে মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯.২১ শতাংশ। একইভাবে শহরাঞ্চলেও মূল্যস্ফীতি ৯.০৭ শতাংশ থেকে কমে ৮.৬৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৮.০২ শতাংশে নেমেছে, যদিও খাদ্যবহির্ভূত খাতে সামান্য বেড়ে ৯.৩৮ শতাংশ হয়েছে। শহরেও খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭৮ শতাংশে দাঁড়ালেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৮.৬২ শতাংশে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, মার্চ মাসে শ্রমজীবী মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার সামান্য বেড়ে ৮.০৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৮.০৬ শতাংশ। তবে মূল্যস্ফীতির হার এখনও মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে বেশি থাকায় প্রকৃত আয় পুরোপুরি বাড়েনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও মূল্যস্ফীতি কমার প্রবণতা কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে, তবুও দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ পুরোপুরি কমেনি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে টানা প্রায় ৫০ মাস ধরে প্রকৃত আয় হ্রাসের ধারা অব্যাহত রয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।