বাংলাদেশ

যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন সাখাওয়াত হোসেন

  • 5:20 pm - April 06, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২০৩ বার
সাখাওয়াত হোসেন, ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৬ এপ্রিল-অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ওয়ান-ইলেভেন সময়কার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনকে যেকোনো সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ওয়ান-ইলেভেনের সময় তার ভূমিকা, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর সংশ্লিষ্ট নানা অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্তাধীন রয়েছে।

একাধিক সূত্র জানায়, ওয়ান-ইলেভেনের সময় সাখাওয়াত হোসেন নির্বাচন কমিশনের প্রভাবশালী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তাকে ঘিরে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি বিভিন্ন কুচক্রী মহলের সঙ্গে কমিশনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং তাদের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতেন। একই সঙ্গে বিএনপিকে ভাঙার অপচেষ্টা এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর মতো গুরুতর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যালটের নকশা ও প্রিন্টিং সংক্রান্ত তথ্য তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তার কাছে সরবরাহ করার অভিযোগও উঠে এসেছে।

সেই সময় নির্বাচন কমিশনের প্রধান ছিলেন ড. এ টি এম শামসুল হুদা এবং অন্যান্য কমিশনার ও কর্মকর্তাদের ওপরও তার প্রভাব ছিল বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে। ফলে কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তার প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য।

সম্প্রতি লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ গ্রেপ্তারের পর সাখাওয়াত হোসেনকে ঘিরে নতুন করে বিভিন্ন তথ্য সামনে আসতে শুরু করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সে সময়কার ঘটনাপ্রবাহে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। প্রথমে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরবর্তীতে নানা কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যে সরকার বিব্রত হলে তাকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এবং একপর্যায়ে পদত্যাগের ইঙ্গিত দেন। তবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দপ্তরে তার কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত তথ্য থাকার কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন বলে জানা গেছে।

পরবর্তীতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আস্থাও হারান সাখাওয়াত হোসেন। নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় তাকে আর অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে তিনি নিজেও গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে কিছু তথ্য প্রকাশ করেন, যা প্রকাশের পর সরকারের অন্য উপদেষ্টাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

এদিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে তার পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তদন্তের আওতায় আসছে। বিশেষ করে তার পুত্র এম সাফাক হোসেনের বিরুদ্ধে বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার, টেন্ডার ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো নির্মাণ এবং সরঞ্জাম ক্রয়ে তার সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্রগুলো বলছে, বন্দরের বিভিন্ন কাজে নির্দিষ্ট হারে কমিশন গ্রহণ, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অস্বচ্ছ সম্পর্ক এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগও তদন্তের তালিকায় রয়েছে। এসব অভিযোগ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ওয়ান-ইলেভেন সময়কার কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ের সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে যেকোনো সময় সাখাওয়াত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

এই শাখার আরও খবর

নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর গর্ত থেকে শিশু বিথি রায়ের মরদেহ উদ্ধার

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর বিথি রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টার দিকে…

যুক্তরাজ্যে ফিরলেও রাজপরিবারের দায়িত্বে ফিরছেন না হ্যারি-মেগান

যুক্তরাজ্যে প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেলের ফেরার খবরে রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই হ্যারি ও মেগানের…

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারি প্রতিষ্ঠান গঠনের আহ্বান ফলকার টুর্কের

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার…

গণপতি পরিবারের ছয়-সাত ভরি স্বর্ণ গেল কোথায়? উদ্ধার সম্ভব নয় কেন বলছে পুলিশ?

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো, হত্যার…

ডেঙ্গুতে ৪২ হাজারের বেশি আক্রান্ত, মৃত্যু ১১৭

বাংলাদেশে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪২ হাজার ৫৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে…

সুন্দরবন ও বাঘ সংরক্ষণে বাংলাদেশ-ভারতের পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশে

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারত বিদ্যমান সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় পরবর্তী বৈঠকগুলো বাংলাদেশে আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তসীমান্ত…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au