মেলবোর্ন, ৮ এপ্রিল- ২০১৬ সালের Rio Olympics 2016-এ স্বর্ণজয়ী রুশ জিমন্যাস্ট Margarita Mamun ব্যক্তিগত সফরে বাংলাদেশে এসেছেন। প্রয়াত বাবা আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্মৃতির টানে তার এই সফর ঘিরে ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি হয়েছে আগ্রহ।
মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরোনো ভবনের জিমনেশিয়ামে গিয়ে ক্ষুদে জিমন্যাস্টদের অনুশীলন দেখেন তিনি। সেখানে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের অনুপ্রেরণা দেন। এর আগে প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন, তবে সেই সফরটি ছিল কূটনৈতিক ব্যস্ততায় ভরা। এবারের সফর পুরোপুরি ব্যক্তিগত এবং ভিন্ন অভিজ্ঞতার খোঁজে।
মার্গারিতার বাবা আব্দুল্লাহ আল মামুনের জন্ম রাজশাহীর দুর্গাপুরে। ১৯৮৩ সালে তিনি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে পাড়ি জমান। ২০১৬ সালের আগস্টে রিও অলিম্পিকে মেয়ের স্বর্ণজয়ের মাত্র ছয় দিন পর, ৫২ বছর বয়সে ক্যান্সারে মারা যান তিনি। বাবার কাছ থেকে শোনা শৈশবের গল্প আর শেকড়ের টানই এবার তাকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে।
এই সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন এক রুশ সাংবাদিক, যিনি বাংলাদেশে একটি প্রামাণ্যচিত্র ধারণ করছেন। মার্গারিতা জানান, এবার তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে, সংস্কৃতি জানতে এবং বিশেষ করে রাজশাহী ঘুরে দেখতে চান। বাংলাদেশকে তিনি নিজের ‘দ্বিতীয় মাতৃভূমি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি Pohela Boishakh পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকার পরিকল্পনা করেছেন এবং এ সময় দেশের ঐতিহ্য কাছ থেকে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশে জিমন্যাস্টিকসের বর্তমান অবস্থা নিয়েও কথা বলেন এই অলিম্পিয়ান। তিনি জানান, দেশে এখন মূলত আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস চর্চা হলেও রিদমিক জিমন্যাস্টিকস এখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গড়ে ওঠেনি। ভবিষ্যতে এ ক্ষেত্রটি বিকাশের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বর্তমানে মার্গারিতা মামুন ক্রীড়াজীবনের পাশাপাশি উপস্থাপনায় যুক্ত আছেন। তিনি Tokyo Olympics 2020 ও Beijing Olympics 2008-এর কভারেজে অংশ নিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক সন্তানের মা, তার ছয় বছর বয়সী ছেলে সাঁতার শেখে।