মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি বছরে মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে ভারতের তুলনায় এগিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। যদিও সামগ্রিক অর্থনীতির আকারে ভারত…
মেলবোর্ন, ৮ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণলী পুনরায় চালুর খবরে বাজারে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে এসেছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দামও প্রায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে তেলের দাম প্রায় ৭০ ডলার ছিল, তার তুলনায় বর্তমান মূল্য এখনো অনেক বেশি।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারে ইতিবাচন পরিবর্তন দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই সূচক ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজার সূচক ২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার খোলার আগেই ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক এবং নিরাপদভাবে খুলে দিতে সম্মত হয়, তাহলে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখা হবে। এর আগে তিনি নির্ধারিত সময়সীমা দিয়ে সতর্ক করেছিলেন যে সমঝোতা না হলে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করা হলে তারা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি স্বল্পমেয়াদে তেলের দামে স্বস্তি আনলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে কিনা তা এখনো অনিশ্চিত। কারণ, সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুরোপুরি উৎপাদন স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।
এদিকে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে অনেক তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালির আশপাশে আটকে পড়েছিল। যুদ্ধবিরতির ফলে সেগুলো ধীরে ধীরে চলাচল শুরু করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বাজারে কিছুটা স্বস্তি আনবে। তবে এখনো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় জাহাজ চলাচল অনেক কম।
সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে এশিয়ার দেশগুলোতে, যারা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ভারত, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো ইতোমধ্যে তাদের জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ পথ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে। চীনও জানিয়েছে, তাদের কিছু জাহাজ যুদ্ধের মধ্যেও এই প্রণালী অতিক্রম করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি টেকসই হলে ধীরে ধীরে তেলের দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে। তবে এ জন্য স্থায়ী শান্তি চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ বা সীমিত করার হুমকি দিলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এতে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যায় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়। এই প্রণালিটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হওয়ায় এর ওপর যেকোনো প্রভাব সরাসরি জ্বালানি বাজারে প্রতিফলিত হয়।
সূত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au