আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৯ এপ্রিল- রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একাধিক আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা শুরু করেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
রায়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর এবং আরও পাঁচজন নেতাকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার মোট আসামি ৩০ জন। এর মধ্যে ছয়জন বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন এবং আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ, এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী। বাকি ২৪ জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
পলাতকদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদ, রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান, উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন, অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান, তাজহাট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, এসআই বিভূতি ভূষণ রায়সহ আরও অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং ছাত্রলীগের একাধিক নেতাও পলাতক তালিকায় রয়েছেন।
এই মামলার শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল মোট ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে। তদন্ত সংস্থা গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে প্রতিবেদন দাখিল করে। পরবর্তীতে ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন নিহত আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় এবং ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং সেই অবস্থায় পুলিশ তার বুকে গুলি চালায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং সারাদেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আগেই জানিয়েছিলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ রয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় তা প্রমাণিত হবে বলে তারা আশা করছেন। রায়ে সেই প্রত্যাশারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।