শেরপুর-৩ আসনেও বড় ব্যবধানে জিতলেন বিএনপি প্রার্থী
মেলবোর্ন, ১০ এপ্রিল- শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে শেরপুর জেলা…
মেলবোর্ন, ৯ এপ্রিল- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে একটি কথিত গোপন ভিডিও। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে কথোপকথনের কিছু অংশ ওই ভিডিওতে তুলে ধরে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির দাবি, ভিডিওতে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বিজেপির গোপন সমঝোতা এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা অভিযোগ করেন, ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে হুমায়ুন কবীর বিজেপির কাছ থেকে এক হাজার কোটি টাকা চেয়েছেন। পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
প্রকাশিত ভিডিওর কথোপকথনের অংশে হুমায়ুন কবীরকে বলতে শোনা যায়, তিনি রাজ্যের মুসলিম ভোট নিজের দিকে টানতে সক্ষম হয়েছেন এবং এর ফলে হিন্দু ভোট স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির দিকে যাবে। তিনি আরও বলেন, রাজ্যে যদি মুসলিম ভোটের বড় অংশ সরে যায়, তাহলে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন না এবং তখন হিন্দু ভোটারদের একমাত্র বিকল্প হবে বিজেপি। কথোপকথনে তিনি এমন ইঙ্গিতও দেন যে, তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রী হতে চান না, তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পেলে সরকার গঠনে ‘নির্ণায়ক ভূমিকা’ পালন করতে চান এবং প্রয়োজনে বিজেপিকে সমর্থন দেবেন।
এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুণাল ঘোষ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই ভিডিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এতে বিজেপির নির্বাচনী কৌশলের একটি দিক উন্মোচিত হয়েছে। তার অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে ভোট ভাগ করার জন্য ‘বি টিম’ ও ‘সি টিম’ তৈরি করছে এবং মুসলিম ভোট বিভক্ত করতে হুমায়ুন কবীরের মতো নেতাদের ব্যবহার করছে।
একই সংবাদ সম্মেলনে তৃণমূলের আরেক নেতা ফিরহাদ হাকিম বিষয়টিকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোট কেনাবেচার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, মসজিদ নির্মাণ ও ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে অর্থ দাবি করা হয়েছে, যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তিনি আরও বলেন, মুসলিম সমাজকে এই ধরনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতন হতে হবে এবং এ ধরনের রাজনীতির প্রতিবাদ জানাতে হবে।
ফিরহাদ হাকিম আরও দাবি করেন, বিজেপি সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ে সুবিধা করতে না পেরে এখন পরোক্ষভাবে বিভাজনের রাজনীতি করছে এবং ধর্মীয় আবেগকে উসকে দিয়ে ভোটে প্রভাব ফেলতে চাইছে। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘নোংরা রাজনীতি’ বলে উল্লেখ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে এই ভিডিওর বিষয়ে এখন পর্যন্ত হুমায়ুন কবীর বা বিজেপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভিডিওটির সত্যতা নিয়েও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে এ ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ রাজ্যের রাজনীতিকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্রঃ আনন্দবাজার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au