বিশ্ব

‘মিথ্যাচার বন্ধের’ আহ্বান

সব অভিযোগ অস্বীকার করে এপস্টাইন ইস্যুতে মুখ খুললেন মেলানিয়া ট্রাম্প

  • 12:41 pm - April 10, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২১৯ বার
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১০ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তাঁর সঙ্গে বিতর্কিত ও দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইন-এর কোনো ধরনের সম্পর্ক ছিল না। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তাঁকে এপস্টাইনের সঙ্গে যুক্ত করে যে সব দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এসব অপপ্রচার অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। এ বক্তব্যের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে বহুল বিতর্কিত এপস্টাইন ইস্যু, যা এর আগে তাঁর স্বামী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেছনে ফেলে দিতে চেয়েছিলেন।

মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, তিনি কখনোই এপস্টাইনের কোনো ভুক্তভোগী ছিলেন না এবং তাঁর সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল না। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া সেই গুঞ্জনও তিনি নাকচ করেন, যেখানে বলা হচ্ছিল এপস্টাইনই নাকি তাঁর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি জানান, ১৯৯৮ সালে নিউইয়র্কের একটি পার্টিতে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর ২০০০ সালে আরেকটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত থাকাকালে প্রথমবারের মতো এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়।

হোয়াইট হাউসের অভ্যর্থনা কক্ষে প্রেসিডেন্টের সিলমোহরের সামনে দাঁড়িয়ে দেওয়া সংক্ষিপ্ত এই বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমাকে জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে যুক্ত করে যে মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে, তা আজই বন্ধ হওয়া দরকার।” তিনি কোনো সাংবাদিকের প্রশ্ন নেননি এবং সরাসরি বিবৃতি পাঠ করে শোনান।

একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান, যেন এপস্টাইনের ভুক্তভোগীরা শপথের অধীনে প্রকাশ্যে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারেন। তাঁর এই প্রস্তাব নতুন করে বিষয়টিকে জনসম্মুখে নিয়ে আসার সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে এ আলোচনা থেকে সরে আসতে চেয়েছেন।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় এসেছে এপস্টাইন কাণ্ড, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই একটি অস্বস্তিকর বিষয়। সরকারি নথি প্রকাশে বিলম্ব ও ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির অভিযোগে সমর্থকদের মধ্যেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিচার বিভাগ থেকে এপস্টাইন-সংক্রান্ত বিপুল নথি প্রকাশে ধীরগতির কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

একসময় এপস্টাইনের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন ট্রাম্প। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, দুই হাজার সালের শুরুর দিকে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়। সরকারি নথিতে ট্রাম্পসহ বহু পরিচিত ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবীর নাম উঠে এসেছে।

মেলানিয়া ট্রাম্প কেন এ সময়ে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললেন, সে বিষয়ে সরাসরি কিছু জানাননি। তবে তাঁর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক বেকম্যান জানিয়েছেন, “পর্যাপ্ত হয়েছে, এখন মিথ্যাচার বন্ধ হওয়া দরকার বলেই ফার্স্ট লেডি কথা বলেছেন।”

সাম্প্রতিক সময়ে কোনো ফার্স্ট লেডির এভাবে প্রকাশ্যে বিতর্কিত বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা বিরল। সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনের প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মাইকেল লারোসা বলেন, আধুনিক সময়ে কোনো ফার্স্ট লেডি এভাবে সরাসরি বিতর্কে হস্তক্ষেপ করেননি, বিশেষ করে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তর থেকে। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে সাহস লাগে।

মেলানিয়া ট্রাম্প আরও বলেন, এপস্টাইন বা তার সহযোগী গিসলাইন ম্যাক্সওয়েল-এর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল না। ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে কেবল আনুষ্ঠানিক ও সীমিত যোগাযোগ ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। ২০০০ সালে একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত থাকাকালে প্রথম এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে বলে জানান।

তিনি বলেন, তখন তিনি এপস্টাইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় নাবালিকাকে পতিতাবৃত্তিতে যুক্ত করার অভিযোগসহ একাধিক অপরাধে দোষ স্বীকার করেছিলেন এপস্টাইন। ২০১৯ সালে নাবালিকাদের যৌন পাচারের অভিযোগে ফেডারেল মামলার মুখোমুখি থাকাকালে কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়, যা আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, “আমি কখনোই এপস্টাইনের বন্ধু ছিলাম না। নিউইয়র্ক ও পাম বিচে একই সামাজিক পরিমণ্ডলে থাকার কারণে মাঝে মধ্যে একই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।”

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের পাস করা স্বচ্ছতা আইনের অধীনে এপস্টাইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। এসব নথির মধ্যে ২০০২ সালে মেলানিয়া ট্রাম্পের একটি ইমেইলও রয়েছে, যা তিনি গিসলাইন ম্যাক্সওয়েলকে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য ছিল। মেলানিয়া এটিকে “সাধারণ ও তুচ্ছ যোগাযোগ” বলে উল্লেখ করেছেন।

জনমত জরিপে দেখা গেছে, এপস্টাইন ইস্যু সামলাতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আস্থা কম। জানুয়ারিতে করা এক জরিপে মাত্র ২১ শতাংশ মানুষ এ বিষয়ে ট্রাম্পের ভূমিকা সমর্থন করেছেন। ফেব্রুয়ারির আরেক জরিপে তিন-চতুর্থাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, এপস্টাইনের সম্ভাব্য ক্লায়েন্টদের বিষয়ে সরকার তথ্য গোপন করছে।

তবে মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রস্তাবিত প্রকাশ্য শুনানির বিরোধিতা করেছেন এপস্টাইনের প্রায় এক ডজন ভুক্তভোগী। তাদের মতে, তারা ইতোমধ্যে সাক্ষ্য ও প্রতিবেদন দিয়ে যথেষ্ট তথ্য প্রকাশ করেছেন। এখন দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের, তারা যেন যথাযথ ব্যবস্থা নেয় এবং স্বচ্ছতা আইন বাস্তবায়ন করে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এই শাখার আরও খবর

নয়াদিল্লিতে ভবন ধসে নিহত বেড়ে ৬, কারণ জানালো কর্তৃপক্ষ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি পুরনো ভবন ধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার ভবনটির বেসমেন্টে সংস্কারকাজ…

আইএসবিরোধী লড়াইয়ের পর সিরিয়ার নতুন ব্যবস্থায় জায়গা খুঁজছে কুর্দি নারী যোদ্ধারা

সিরিয়ার নতুন নিরাপত্তা কাঠামোয় নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে কুর্দি নারী যোদ্ধাদের সংগঠন উইমেন’স প্রোটেকশন ইউনিটস বা ওয়াইপিজে। সংগঠনটির কমান্ডার নওরুজ আহমেদ জানিয়েছেন,…

মিস ওয়ার্ল্ডে তৃতীয় হয়ে সাফল্য মালয়েশিয়াকে উৎসর্গ তানুসিয়ার

মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে নিজের সাফল্য মালয়েশিয়ার জনগণকে উৎসর্গ করেছেন দেশটির প্রতিযোগী তানুসিয়া চেট্টি। ভিয়েতনামের ন্যা ট্রাংয়ে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে তৃতীয়…

নিজেদের স্বার্থেই রাশিয়ার তেল কেনে ভারত: রুশ রাষ্ট্রদূত

রাশিয়ার তেল ভারত নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই কেনে, রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে সহায়তা করার জন্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে…

ধ্বংসস্তূপে ১০ দিন পর জীবিত মিলল নিখোঁজ নারী

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠ নামে এক নারীকে। তাকে মৃত ধরে নিয়ে…

যুদ্ধের নিয়ম বদলে গেছে: ইরানি অধ্যাপক

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও ইরানি জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে তেহরানের পক্ষ থেকে আরও বড় ধরনের পাল্টা জবাব আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের অধ্যাপক মোস্তাফা খোশচেশম।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au