জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে একদিনে ৯১টি বিল পাস
মেলবোর্ন, ১১ এপ্রিল- জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের অংশ হিসেবে একদিনেই মোট ৯১টি বিল পাস হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল)…
মেলবোর্ন, ১১ এপ্রিল- ছত্রগাছা এলাকায় অবস্থিত স্কুলটির তিন তলার একটি কক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয় বলে মিরপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে। ১১ বছর বয়সী শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. হোসেন ইমাম বলেন, “বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রেফার করা শিশুটিকে আমাদের হাসপাতালে আনা হয়। নিয়ম অনুযায়ী তাকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় এবং তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। তবে কেউ কোনো তথ্য দিতে রাজি হচ্ছিল না।
“পরে শুক্রবার সকালে গাইনি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শিশুটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নমুনা সংগ্রহ করেন। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।”
ঘটনার বর্ণনায় ওই ছাত্রীর দাদি বলছেন, “বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় আমার নাতনি বাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুলে যায়। দুপুরে সব বাচ্চারা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে আসলেও নাতনি না ফেরায় আমি আশেপাশে অন্যান্য বাচ্চাদের কাছে তার কথা জিজ্ঞাসা করি। সব বাচ্চারাই বলে, আমরা সবাই তো একসঙ্গেই স্কুল তেকে বেরিয়ে আইছি।
“পরে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও না পেয়ে নাতনির সহপাঠীরা বিকালের দিকে স্কুলে যায় খোঁজ করতে। ওই সময় শিক্ষার্থীরা স্কুলের দপ্তরি হামিদুলকে তালা খুলে দিতে বললে তিনি চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তারা বাড়ি ফিরে যায়।”
তিনি বলেন, “এরপর রাত ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা আবার স্কুলে গিয়ে দপ্তরি হামিদুলের কাছ থেকে জোর করে চাবি নিয়ে তালা খুলে ভেতরে ঢোকে। সেখানে নিচতলায় স্যান্ডেল, দোতলায় স্কুল ব্যাগ এবং তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে টেপ লাগানো আহত অবস্থায় আমার নাতনিকে উদ্ধার করা হয়।
“পরে তাকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।”
ওই ছাত্রীর ফুফু বলেন, “বৃহস্পতিবার বিকালে আমার ভাতিজির সহপাঠীরা স্কুল খুলতে দপ্তরির কাছে চাবি চাইলে তিনি তা দিতে রাজ হন নাই। পরে রাতে পরিবারের সদস্যরা জোর করে তার কাছ থেকে চাবি নিয়ে স্কুল খুলে ভাতিজিকে অবস্থায় উদ্ধার করে।
“এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, আমাদের মেয়ের সঙ্গে যা কিছু ঘটেছে সে বিষয়ে দপ্তরি অবশ্যই কিছু জানেন।”
এ বিষয়ে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে মোবাইলে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বৃহস্পতিবার আমাদের স্কুলের এসএসসি-২০২৬ ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান ছিলো। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়ে বেলা ১টা পর্যন্ত চলে।
“যেহেতু এদিন কোনো পাঠদান কার্যক্রম ছিল না, সে কারণে অনুষ্ঠান শেষে স্বাভাবিকভাবে সব শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যায়। আমরাও (শিক্ষকরা) সবকিছু গোছগাছ করে সবাই বাড়ি চলে যাই। পরে শুনি রাত ৮টার দিকে স্কুলের তালা খুলে তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে টেপ মোড়ানো আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি খুবই হৃদয়বিদারক।”
ওসি শহিদুল বলেন, “আমি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। ওই শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতজনিত কালশিরা ও ক্ষতের চিহ্ন দেখা গেছে। যে অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাতে তার ওপর যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সেটি স্পষ্ট।”
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au