মেলবোর্নে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল: মেলবোর্নে বসবাসরত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের অন্যতম সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি অফ ভিক্টোরিয়ার উদ্যোগে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য আয়োজন। ১১ এপ্রিল…
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সে নতুন এক বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ১৮ বছর বয়সী তরুণ স্প্রিন্টার গাউট গাউট। সিডনিতে অনুষ্ঠিত প্রতিকূল আবহাওয়ার এক প্রতিযোগিতায় তিনি ২০০ মিটার দৌড় শেষ করেন মাত্র ১৯.৬৭ সেকেন্ডে, যার মধ্য দিয়ে ভেঙে যায় কিংবদন্তি জ্যামাইকান দৌড়বিদ উসাইন বোল্টের বয়সভিত্তিক আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড।
এই রেকর্ড অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সের আগেই ২০০ মিটার দৌড়ে বোল্টের সেরা সময় ছিল ১৯.৯৩ সেকেন্ড। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে অক্ষত থাকা সেই সময়কে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন এই তরুণ অস্ট্রেলিয়ান অ্যাথলেট।
রবিবারের এই প্রতিযোগিতায় গাউট গাউট শুধু সময়ের দিক থেকেই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিক থেকেও নজর কাড়েন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আইডেন মারফি দৌড়ের মাঝপথে শক্তিশালী গতি নিয়ে এগিয়ে গিয়ে এক পর্যায়ে লিডও নেন। শেষ পর্যন্ত মারফি ১৯.৮৮ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন। তবে শেষের দিকে অসাধারণ স্পিড ধরে রেখে গাউট তাকে ছাড়িয়ে যান এবং বিজয় নিশ্চিত করেন।
দৌড় শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে গাউট বলেন, এই মুহূর্তের জন্যই তিনি অপেক্ষা করছিলেন। তার মতে, একই রেসে দুই অস্ট্রেলিয়ান অ্যাথলেটের ২০ সেকেন্ডের নিচে দৌড় শেষ করা এক অবিশ্বাস্য অর্জন, যা তাদের পারস্পরিক অনুপ্রেরণার ফল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাউট গাউটের দৌড়ের স্টাইল তাকে আলাদা করে তুলেছে। তার দীর্ঘ পদক্ষেপ, সোজা ভঙ্গি এবং শেষের দিকে গতি বাড়ানোর সক্ষমতা তাকে ইতোমধ্যেই “পরবর্তী উসাইন বোল্ট” হিসেবে আলোচনায় এনেছে।
উসাইন বোল্ট ২০০৮ অলিম্পিকের আগে ১৯.৭৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে বিশ্ব মঞ্চে প্রবেশ করেছিলেন। সেই বয়সেই গাউট এখন তার চেয়েও দ্রুত সময় অর্জন করেছেন, যা তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে আরও আলোচিত করে তুলেছে। তবে বোল্ট পরবর্তীতে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে এক অনন্য অবস্থান তৈরি করেছিলেন, সেই পর্যায়ে পৌঁছানোর পথ গাউটের জন্য এখনো দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং।
গাউট গাউটের এই উত্থান হঠাৎ নয়। ২০০৭ সালে কুইন্সল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই তরুণের পরিবার দক্ষিণ সুদানের সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে প্রথমে মিশর হয়ে পরে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হয়। পরিবারিক এই অভিবাসন ইতিহাস তার জীবনের পেছনের বাস্তবতা আরও গভীর করে।
তার নাম নিয়েও রয়েছে একটি বিশেষ গল্প। ইংরেজি উচ্চারণ অনুযায়ী তাকে “গাউট” বলা হলেও, তার বাবা বোনা গুওট জানিয়েছেন সরকারি নথিতে ভুলের কারণে নামের বানান পরিবর্তিত হয়ে গেছে। মূল উচ্চারণ ছিল “গুওট”, তবে এখন তিনি বিশ্বজুড়ে গাউট গাউট নামেই পরিচিত।
মাত্র দুই বছরের কম সময়ের মধ্যেই তিনি অস্ট্রেলিয়ান অ্যাথলেটিক্সে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। কুইন্সল্যান্ডের এই তরুণ ২০২৪ সালে পিটার নরম্যানের ৫৬ বছর পুরোনো জাতীয় ২০০ মিটার রেকর্ড ভেঙে দেন, যা তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় আনে।
এরপর জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে ২০০ মিটার ইভেন্টের সেমিফাইনালে পৌঁছে তিনি আরও বড় মঞ্চে নিজের উপস্থিতি জানান দেন।
বর্তমানে তার লক্ষ্য কমনওয়েলথ গেমস নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ইউজিনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব অনূর্ধ্ব-২০ অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। কোচিং স্টাফদের মতে, এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে তিনি সোনার অন্যতম প্রধান দাবিদার হয়ে উঠতে পারেন।
অ্যাথলেটিক্স বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে এই তরুণের দিকে, যিনি খুব অল্প বয়সেই গতি, শক্তি এবং আত্মবিশ্বাসের এক নতুন সংজ্ঞা তৈরি করতে শুরু করেছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au