অস্ট্রেলিয়ার সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কোয়েল। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে একজন নারীকে নিয়োগ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীতে বড় ধরনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অস্ট্রেলিয়ার সামরিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কোয়েল আগামী জুলাই মাসে দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি বর্তমান সেনাপ্রধান সাইমন স্টুয়ার্ট-এর স্থলাভিষিক্ত হবেন।
বর্তমানে সুসান কোয়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর ‘জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ’ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণের ভিত্তিতে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের ১২৫ বছরের সামরিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তিনি এই নিয়োগকে ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, এটি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
একইসঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস সুসান কোয়েলের নিয়োগকে ‘অত্যন্ত ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এই অর্জন বর্তমান ও ভবিষ্যতের নারী সেনাসদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুসান কোয়েলের এই নিয়োগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। বর্তমানে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় ২১ শতাংশ এবং শীর্ষ নেতৃত্বে এ হার ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে একইসঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভেতরে যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগও সামনে এসেছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়, হাজারো নারী সদস্যকে যৌন নির্যাতন, হয়রানি ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এমন প্রেক্ষাপটে নারী নেতৃত্বে এই পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, প্রতিরক্ষা বাহিনীতে একাধিক উচ্চপর্যায়ের পদে রদবদল আনা হয়েছে। সরকার সোমবার ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক হ্যামন্ড-কে নতুন প্রতিরক্ষা প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি অ্যাডমিরাল ডেভিড জনস্টন-এর স্থলাভিষিক্ত হবেন।
অন্যদিকে, নৌবাহিনীর ডেপুটি প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল ম্যাথিউ বাকলি-কে নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যিনি মার্ক হ্যামন্ডের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কার্যকর কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।