মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের হুমকি দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ইরানের তেল রপ্তানিতে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ কার্যকর হলে চীনের মতো প্রধান ক্রেতার কাছে ইরানের তেল বিক্রি বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বন্দর অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক জাস্টিন ক্রাম্পের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু সামরিক উত্তেজনাই বাড়াবে না, বরং ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কঠিন অবস্থায় ফেলতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা বিশ্লেষকরা ইরানকে চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। যুদ্ধের আগে চীনই ছিল ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা। দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত ২৫ বছরের কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তির মাধ্যমে, যার আওতায় চীন ইরানে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং এর বিনিময়ে নিয়মিত তেল সরবরাহ পায়।
তবে চলমান সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে। এর সঙ্গে যদি অবরোধ যুক্ত হয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষক ক্রাম্প মনে করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই নিজেদের তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছে এবং প্রতিপক্ষকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করতে চাইছে। এই মনস্তাত্ত্বিক অবস্থানই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনায় কোনো চুক্তি না হলেও দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি ইতিবাচক দিক।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান শুধু আঞ্চলিক রাজনীতিতেই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য এবং অর্থনীতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সুত্রঃ বিবিসি