পহেলা বৈশাখে দেশবাসীকে শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা
মেলবোর্ন, ১৪ এপ্রিল- বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং অসাম্প্রদায়িক…
মেলবোর্ন, ১৪ এপ্রিল- মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে ‘চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। গোষ্ঠীটির ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন প্রধান মেজর জেনারেল তোয়াই ম্রা নাইং।
শুক্রবার দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবে তাদের বাহিনী। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে আরাকান আর্মি। এ পর্যন্ত তারা রাখাইন রাজ্যের ১৪টি টাউনশিপ এবং দক্ষিণ চিন রাজ্যের পালেতওয়া নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। বর্তমানে রাখাইনের মাত্র তিনটি গুরুত্বপূর্ণ টাউনশিপ-রাজধানী সিত্তুয়ে, কিয়াকফিউ ও মানাউং-এখনও জান্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর রাখাইনে জান্তা-বিরোধী বড় ধরনের অভিযান শুরু করে এএ। এর কিছুদিন আগে উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যে ‘অপারেশন ১০২৭’ চালু করে ‘ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’, যার অন্যতম সদস্য আরাকান আর্মি। এই জোটের সমন্বিত অভিযানে মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে জান্তা বাহিনীর ওপর চাপ বেড়েছে।
সামরিক সাফল্যের পাশাপাশি নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে প্রশাসনিক কাঠামোও গড়ে তুলেছে আরাকান আর্মি। সেখানে তারা আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র চালু করেছে বলে জানা গেছে। তবে জান্তা বাহিনীর অব্যাহত বিমান ও নৌ হামলার কারণে বেসামরিক মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আরাকান আর্মিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ‘ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’-এর অন্যান্য সদস্য, মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি ও তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি। এছাড়া জান্তা-বিরোধী ছায়া সরকার ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি), ইউনিয়ন পার্লামেন্টের প্রতিনিধিত্বকারী কমিটি (সিআরপিএইচ) এবং আরও ৪০টির বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী অভিনন্দন বার্তা দিয়েছে।
২০০৯ সালের ১০ এপ্রিল মিয়ানমার-চীন সীমান্তের লাইজায় মাত্র ২৬ জন সদস্য ও একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল আরাকান আর্মি। প্রায় দেড় দশকে তারা এখন দেশটির অন্যতম শক্তিশালী বিদ্রোহী শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আরাকান আর্মির এই অগ্রযাত্রা মিয়ানমারের চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে এবং দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়াচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au