চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরখাস্ত
মেলবোর্ন, ১৪ এপ্রিল- চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইদংকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে…
মেলবোর্ন, ১৪ এপ্রিল- ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে অংশ না নিতে লেবানন সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন হিজবুল্লাহ এর শীর্ষ নেতা নাইম কাসেম। তিনি এ ধরনের উদ্যোগকে ‘অকার্যকর’ বলে উল্লেখ করে বলেন, ইসরায়েল যখন লেবাননে হামলা জোরদার করছে, তখন এই আলোচনা বাস্তব কোনো সমাধান দেবে না।
সোমবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে নাইম কাসেম লেবানন সরকারকে ‘ঐতিহাসিক ও সাহসী অবস্থান’ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরিকল্পিত আলোচনায় অংশ না নেওয়াই হবে দেশের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত।
আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
নাইম কাসেম অভিযোগ করেন, এই আলোচনা মূলত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল। তিনি বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার বলেছেন, এই আলোচনার লক্ষ্য হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা। তাই উদ্দেশ্য স্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও এমন আলোচনায় যাওয়ার কোনো যুক্তি নেই।
তিনি আরও বলেন, হিজবুল্লাহ কোনোভাবেই পিছু হটবে না। “আমরা থামব না, আত্মসমর্পণ করব না। বরং যুদ্ধক্ষেত্রই আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে,” বলেন তিনি।
গত মার্চের শুরুতে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর লেবাননে ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযান জোরদার করে। যদিও ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল, তবুও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে আসছিল।
হিজবুল্লাহ জানায়, ২ মার্চ তাদের হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবে। ওই ঘটনা ঘটে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের প্রথম দিনেই।
এরপর থেকে ইসরায়েলের বিমান হামলা ও দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানে অন্তত ২ হাজার ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৬৫ জন শিশু এবং ৮৭ জন চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা লেবাননের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু করতে চায় এবং সেই আলোচনায় হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একইসঙ্গে দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার বা যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা হিজবুল্লাহর অস্ত্র ভেঙে দিতে চাই এবং এমন একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি চাই, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে।”
নাইম কাসেম বলেন, এই ধরনের আলোচনা শুরু করতে হলে লেবাননের অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য প্রয়োজন, যা বর্তমানে নেই। তিনি এ উদ্যোগকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘একতরফা ছাড়’ হিসেবে আখ্যা দেন।
এই বক্তব্যের আগে রাজধানী বৈরুতে গত শুক্রবার ও শনিবার শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। তারা অভিযোগ করেন, ইসরায়েল যখন লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন সরাসরি আলোচনায় বসা লেবাননের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালামের সমালোচনা করেন।
এদিকে সোমবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ শহর বিন্ত জবেইল পুরোপুরি ঘিরে ফেলেছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
নাইম কাসেম সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের যেকোনো এলাকায় প্রবেশ করলেও তাদের উত্তরাঞ্চলের বসতিগুলো নিরাপদ থাকবে না। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধের শুরুতেই হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রমকে অবৈধ ঘোষণা করে বৈরুত সরকার তাদের সঙ্গে ‘পেছন থেকে আঘাত’ করেছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রকাশ্যে বলেছে, তারা লেবাননের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে চায় যাতে তারা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে পারে। তবে তার দাবি, লেবাননের সেনাবাহিনীর পক্ষে এমন পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।
সুত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au