দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার বন্ধ ঘোষণা,
মেলবোর্ন, ১৪ এপ্রিল- অপরিশোধিত তেলের তীব্র সংকটে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে কারখানাটিতে শেষবারের মতো তেল পরিশোধন করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন তেল এবং ট্যাংকের ডেড স্টক ব্যবহার করেও উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
সাধারণত দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে থাকে ইআরএল। কিন্তু সংকটের কারণে গত মাস থেকেই উৎপাদন কমিয়ে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছিল। মার্চের শুরুতে ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুত ২ হাজার টনের নিচে নেমে আসে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এই সংকটের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে প্রায় দুই মাস ধরে বাংলাদেশে অপরিশোধিত তেলের নতুন কোনো চালান আসেনি। ফলে শোধনাগারটি পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, যার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে এবং ইআরএল-এ পরিশোধিত হয়।
তবে পরিস্থিতি নিয়ে আপাতত আশ্বস্ত করছে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না। নতুন করে ক্রুড অয়েলের চালান আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ ব্যবস্থার বৈচিত্র্য না আনলে ভবিষ্যতে এমন সংকট আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।